রাজধানীর হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মাদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়াকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার ভোরে রাজধানীর উত্তরার উত্তরখান এলাকায় তার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সাইফুর রহমান ভূঁইয়া পরিবার নিয়ে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় থাকতেন। সম্প্রতি তিনি উত্তরার উত্তরখান থানা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় মাঝে মাঝে থাকতেন। সেই বাসায় একাই থাকতেন।
কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী রেজাউল রায়হান বলেন, সাইফুর রহমান স্যারকে কে বা করা সোমবার ভোর রাতে (সেহেরির সময়) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে হত্যা করেছে। তার গলায় ও মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতের দাগ রয়েছে। হাসপাতালে শিক্ষকেরা থাকলেও কেউ থানার সহযোগিতা নেননি বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তেনের পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে সবাইকে পদত্যাগ করিয়ে নতুন করে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হয়। সেখানে সাইফুর রহমান ভূঁইয়াকে উপাধ্যক্ষ করা হয়েছিল।
উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, সোমবার রাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতের দাগ রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
ওসি আরও বলেন, উত্তরখানের ওই ভাড়া বাসায় গত বছরের আগস্ট–সেপ্টেম্বর থেকে ভাড়া থাকেন তিনি। গত কয়েকদিন আগে এক নারী ও তরুণকে ভাবি–ভাতিজা পরিচয়ে বাসায় নিয়ে আসেন উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া। সোমবার সেহরির সময় সাইফুর বাথরুমে গেলে সেখানেই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন তারা। এরপর বাথরুমের দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যান তারা। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাথরুমের দরজা ভেঙে বের হয়ে বেলকুনিতে এসে চিৎকার করেন তিনি। তখন বাসার মালিক ও অন্য ভাড়াটিয়ারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ