ভারতের বিপক্ষে ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে দারুণ এক ম্যাচ উপহার দিয়েছিলেন জামাল ভূইয়ারা। কলকাতার যুবভারতীতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ৪২ মিনিটে সাদ উদ্দিনের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। একেবারে শেষ দিকে ম্যাচের ৮৮ মিনিটে আদিল খানের গোলে সমতায় ফিরে ভারত। পরাজয়ের লজ্জা থেকে কোনোরকমে বেঁচে যায় তারা। এরপর আরও দুবার ফুটবল নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ-ভারত। প্রতিবারই দুই দেশের ফুটবল সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথার যুদ্ধে নেমেছেন। উত্তেজনার পারদ চড়েছে অনেকটা।
আরও একটা বাংলাদেশ-ভারত ফুটবল যুদ্ধ সামনে। এবার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ। ভেন্যু শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম। এই ম্যাচ ঘিরে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অনেক বেশি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিস্টার সিটির জার্সিতে দাপুটে ফুটবল খেলা হামজা চৌধুরী যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশ দলে। এ ছাড়াও দলে নাম লিখিয়েছেন ইতালিয়ান ক্লাব ফুটবলে খেলা ফাহামিদুল ইসলাম। জামাল ভূইয়া, তারিক কাজী, শেখ মোরসালিনরা তো আছেনই। নতুন বাংলাদেশকে ঠেকাতে ভারতীয় দলে ফিরেছেন সুনীল ছেত্রী। দলটির স্প্যানিশ কোচ মানোলু মারকেজ নানা পরিকল্পনা আঁটছেন হামজাদের ঠেকাতে। পরিকল্পনা কম করছেন না বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরাও। বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনায় কয়েক দিনের অনুশীলন শেষ করে তিনি এখন সদলবলে সৌদি আরবের তায়েফে। সেখানে যোগ দিয়েছেন ফাহামিদুল ইসলাম। সৌদি আরবের ক্লাব আল ওয়েদাতের সঙ্গে একটা প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছেন। ক্লোজড ডোর ম্যাচের ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো কিছু জানাননি কোচ। এটা পরিকল্পনারই অংশ। প্রতিপক্ষ ভারতকে নিজেদের ব্যাপারে খুব একটা জানতে দিতে রাজি নন কাবরেরা। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। এখানে সবাইকেই প্রায় ৪৫ মিনিট করে খেলার সুযোগ দিয়েছি।’ আরও একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার ইচ্ছা আছে বাংলাদেশ দলের। ভারত ম্যাচ যে কাবরেরার কাছেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ তা তিনি আগেই খোলাসা করেছেন। সৌদি যাত্রার আগে বলেছেন, ‘সামনে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমার সময়ের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হবে এটা।’ বাংলাদেশ-ভারত ফুটবল লড়াইয়ের উত্তাপ অনুভব করছেন কোচও। এটা যে তার প্রথম ‘ভারত পরীক্ষা’। কাবরেরা করোনার সময়ে ২০২২ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। এরপর তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে বাফুফে। কাবরেরার সময়কালীন ভারতের মুখোমুখি হয়নি বাংলাদেশ। দুই দল শেষবার খেলেছে ২০২১ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে দুই দল। ২০০৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে খুব একটা সফল বলা যাবে না ভারতকে। এ সময়ের মধ্যে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। চারবারই ড্র করেছে বাংলাদেশ। একবার জয় পেয়েছে ভারত। শিলংয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। সেখানে হামজা-ফাহামিদুলরা নতুন করে লিখতে পারেন ইতিহাস। ভারতের মাটিতে সেই নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে কি না বলা কঠিন। তবে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা তার পরীক্ষাটা বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছেন। তার হাত ধরেই দীর্ঘদিন পর সাফ ফুটবলে সেমিফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ (২০২৩ সালে, ভারতের মাটিতে)। তার হাত ধরেই কি নতুন গল্প লেখার রসদ পাবে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা!