বার্বাডোজে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠের ঘাস চিবিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ৯ মাস পর দুবাইয়ে রোহিত ছিলেন শান্ত, সৌম্য, ধীরস্থির। বার্বাডোজে রোহিতের নেতৃত্বে ভারত জিতেছিল টি-২০ বিশ্বকাপ। এবার ‘মরুশহর’ দুবাইয়ে জিতল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। দুই দুটি ট্রফি জিতে পাহাড়সমান চাপ নেমে গেছে রোহিতের বুক থেকে। অথচ ২০২১ ও ২০২৩ সালের দুটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ভারত। তখন নেটিজেনের অনেকে আড়ালে আবডালে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ভারতকে চোকার বলা শুরু করেছিল। ২০২৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ জিতে হয়তো নিজেদের প্রমাণ করার আনন্দে অদ্ভুত নাচ নেচেছিলেন রোহিত। দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতে স্থির ছিলেন সাদা বলে বিশ্বসেরা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতে ভারত এ মুহূর্তে সাদা বলে ওয়ানডেতে সবচেয়ে ধারাবাহিক দল। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সর্বশেষ হেরেছিল। এরপর টানা ২৩ ম্যাচে হারেনি। পরিসংখ্যানটি অবশ্য আইসিসি ইভেন্টের। গত দেড় বছরে রোহিতের নেতৃত্বে ভারত ৪টি আইসিসি ইভেন্টের ফাইনাল খেলেছে। দুটিতে চ্যাম্পিয়ন এবং দুটিতে রানার্সআপ হয়।
ঘরের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ হেরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল রোহিত বাহিনী। দলের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার রোহিত ও বিরাট কোহলির অবসরের যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সেজন্যই হয়তো সাদা বলের টুর্নামেন্ট জিততে মরিয়া হয়ে উঠেছিল রোহিত ও গৌতম গম্ভীরের ভারত। দেশটির বর্তমান সময়ের সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার ইয়াশভি জয়সোয়ালকে বাদ দিয়ে বরুণ চক্রবর্তীকে নিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্কোয়াড সাজায়। দুবাইয়ের ফাইনালে চার স্পিনার নিয়ে খেলে ৬ উইকেটে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মোট ৯ আসরে সবচেয়ে বেশি তিনটির শিরোপা জিতেছে ভারত। এর আগে ২০০২ সালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যুগ্মভাবে এবং ২০১৩ সালে এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। দলটির দুই সিনিয়র ক্রিকেটার রোহিত ও কোহলি যৌথভাবে আইসিসির ৯টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ৪টিতে। দুবাইয়ের ফাইনালের সেরা হয়েছেন রোহিত এবং ব্যর্থ হয়েছেন কোহলি। তরুণদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কোহলি ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন। সাবেক অধিনায়ক মনে করেন আগামী ৮ বছর ক্রিকেট বিশ্বকে শাসন করবে ভারত। তিনি বলেন, ‘যখন আপনি ছাড়তে চান, আপনি চেষ্টা করবেন দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে গিয়ে ছাড়তে। দলের ভবিষ্যৎ ভালো হাতে রয়েছে। আমাদের যা দল তাতে আগামী ৮ থেকে ১০ বছর ক্রিকেট শাসন করার জন্য আমরা তৈরি। ড্রেসিংরুমে এখন অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার। তারা ম্যাচ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। সিনিয়ররা সাহায্য করতে পেরে অনেক খুশি। অভিজ্ঞতা বিনিময় করছি এবং এটাই ভারত দলকে এতটা শক্তিশালী বানিয়েছে।’
কোচ গম্ভীরও একটি রেকর্ড গড়েছেন। ক্রিকেটার হিসেবে গম্ভীর ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতেন। কোচ হিসেবে এবার জিতলেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। রাহুল দ্রাবিড় ২০০২ সালে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জেতেন। কোচ হিসেবে টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছেন ২০২৪ সালে। আরও তিন ক্রিকেটারের রয়েছে এই কৃতিত্ব। অস্ট্রেলিয়ার ড্যারেন লেহম্যান ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালে ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং কোচ হিসেবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতেন ২০১৫ সালে। জিওফ মার্শ কোচ হিসেবে ১৯৯৯ সালে এবং ক্রিকেটার হিসেবে জিতেছিলেন ১৯৮৭ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যারি কার্স্টেন ক্রিকেটার হিসেবে ১৯৯৮ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং কোচ হিসেবে ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতেন।