প্রায় তিন দশক আগে, ১৯৯৬ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অর্জুনা রানাতুঙ্গা বিশ্বকাপ ট্রফি নিচ্ছেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর হাত থেকে। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া ইতিহাসে সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো সবচেয়ে রঙিন ছবি। পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসেও অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল সেদিন। পাকিস্তান সেবার প্রথম ও সর্বশেষ আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজক হয়েছিল। এরপর বহু বছর পেরিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছে পাকিস্তান। কিন্তু এ সময়ে কখনোই আইসিসির আর কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করেনি। ২৯ বছর পর সেই হতাশার বৃত্ত ভেঙে এবার আয়োজন করছে আট জাতির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ১৯ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজন করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। টুর্নামেন্টটির সহ আয়োজক ‘মরুশহর’ দুবাই।
সময়ের হিসাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মাঠে গড়াবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর। ট্রফির আরেক নাম ‘মিনি বিশ্বকাপ’। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় আসরটি শুরু হয়েছিল ‘আইসিসি নকআউট বিশ্বকাপ’ নামে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বশেষ আসর বসেছিল ২০১৭ সালে। এবার আট বছর পর মাঠে গড়াচ্ছে। ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম পাকিস্তান আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। ২৯ বছর আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল পাকিস্তান। সেবার সহ আয়োজক ছিল ভারত। দুই যুগেরও বেশি সময় পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে সাজ সাজ রব ক্রিকেট পাগল পাকিস্তানে। সফলভাবে টুর্নামেন্টটি শেষ করতে দলগুলোকে সর্বোচ্চ তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবে পাকিস্তান সরকার। কারণ অতীত ইতিহাস সুখকর নয়। ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের বাসে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পর অপরাপর দলগুলো বয়কট করে পাকিস্তানের মাটিতে খেলা। এখন পরিস্থিতি ভালো। দলগুলোও তৈরি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে। প্রস্তুত পাকিস্তানের তিন ভেন্যু রাওয়ালপিন্ডি, করাচি ও লাহোর। প্রস্তুত ‘মরুশহর’ দুবাই। এর মধ্যেই বাংলাদেশসহ অপরাপর দলগুলো দুবাই ও পাকিস্তানে পৌঁছেছে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি যেমন পাকিস্তানের জন্য আলাদা কিছু। তেমনই আফগানিস্তানের জন্যও স্মরণীয়। টানা তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা আফগানিস্তান এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবে। বাংলাদেশ খেলবে ষষ্ঠবারের মতো। আগের পাঁচ আসরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি সেমিফাইনাল। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে খেলেছিল। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছিল। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে টাইগাররা এখন দুবাইয়ে। আজ পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। নাজমুল বাহিনীর মিশন শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি ভারত ম্যাচ দিয়ে। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে দুবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত গতকাল দুবাই পৌঁছে। নাজমুল বাহিনী ১৩ ফেব্রুয়ারি গেছে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে উড়ে যাবে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি। সেখানে ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি পকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের জয় ১২ ম্যাচে দুটি। সবচেয়ে বেশি ১৮ জয় ভারতের। ১৪টি করে জয় শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের। অস্ট্রেলিয়ার জয় ১২ এবং পাকিস্তানের জয় ১১টি।
আট বছর আগের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানির পরিমাণ এবার বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। এবার চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশের টাকায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা। রানার্সআপ দল পাবে ১.১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা। দুই সেমিফাইনালিস্ট দল ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা ৬ কোটি ৭৮ লাখ ২৭ হাজার ২০০ টাকা। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পাবে ১ লাখ ২১ হাজার ডলার। এক মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে ১২১.১৮ টাকা হিসাবে।
২০০৬ সাল থেকে একই ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। আট দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে। ‘এ’ গ্রুপে খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। ১৯ ফেব্রুয়ারি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু এবং ফাইনাল ৯ মার্চ, লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। যদি ভারত ফাইনালে ওঠে, তাহলে ফাইনাল হবে দুবাইয়ে। আসরের প্রথম সেমিফাইনাল ৪ মার্চ দুবাই এবং ৫ মার্চ লাহোরে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। পাকিস্তানের মাটিতে ভারত খেলতে রাজি নয় বলে ‘হাইব্রিড’ মডেলে হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।