সাবিনা খাতুনসহ ১৮ ফুটবলারের একই কথা। পিটার বাটলার কোচ থাকলে তারা ফুটবলের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না। প্রয়োজনে গণ অবসরে যাবেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল নিজে বুঝিয়েছেন অনুশীলনে ফিরতে। এতেও রাজি হননি। সভাপতির নির্দেশ বা অনুরোধ অমান্য করা মানেই শাস্তি। তবে বাফুফে সেই পথে যাচ্ছে না। পরিস্থিতির কথা ভেবে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। আর তা হলো আন্দোলনরত ১৮ ফুটবলারকে কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে রাখা। যে চুক্তিতেই তারা বাফুফে থেকে বেতন পান। ৩৫ জনের সঙ্গে নতুন চুক্তিও নাকি করা হচ্ছে। তাহলে কি জাতীয় দলে নতুনদের দেখা মিলছে? এ ধরনের সিদ্ধান্ত যদি সত্যিই নেওয়া হয় তখন তো অভিমানে মেয়েরা অবসরের ঘোষণা দিতে পারে।
বাফুফের নির্বাহী কমিটির এক সদস্য জানান, ‘অতীতে ফুটবলে কম শাস্তির ঘটনা ঘটেনি। এবার যা ঘটেছে তাকে আমরা বিশৃঙ্খলা হিসেবে চিহ্নিত করতে চাচ্ছি না। সবাই চায় সুষ্ঠু সমাধান। সভাপতি নিজে বুঝিয়েছেন। এরপরও যদি না বুঝে তাহলে কী করার আছে। আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ বলে নয়, জাতীয় দল তো থাকতে হবে। ১৮ জন না খেলা মানে শূন্যতা নেমে আসা। এখন বাফুফে বিকল্প পথ বেছে নিতেই পারে। তারপরও তো পথ খোলা আছে, আন্দোলনরত মেয়েরা চাইলেই জাতীয় দলে কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে। এর চেয়ে নরম আর কি হওয়া যায়।’ ১৮ ফুটবলার যে দিন জানালেন পিটার থাকলে তারা অনুশীলনে যাবে না। সেদিনই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সভাপতি সাত সদস্যের বিশেষ কমিটি গড়ে দেন। বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসানের নেতৃত্ব দেওয়া এ কমিটি সাত দিনের মধ্যেই সবার সঙ্গে আলাপ করে রিপোর্ট তৈরি করে সভাপতির কাছে জমা দেন। তাবিথ আউয়াল সেদিনই মেয়েদের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের বৈঠক করেন। যেটাই করুক মেয়েদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়নি। বরং সাফজয়ীদের সম্মান দেখিয়ে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কোচ বা দল গঠন করাটা বাফুফেরই কাজ। সারা বিশ্বেই তা হয়। কে কোচ হবে বা হবে না এখানে হস্তক্ষেপ বা ক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। এ কাজ অনেকটা জিম্মি করার মতো। মেয়েরা কোচকে না বলার পরও বিশেষ কমিটি কিন্তু কড়া কোনো সুপারিশ করেনি। অথচ ইচ্ছা করলেই পারত। কেননা কমিটি কোচের দোষত্রুটি খুঁজে পায়নি। সবাই চাচ্ছে সমাধান। এরপরও যদি না হয়, দুঃখজনক। অতীতে আমরা দেখেছি শৃঙ্খলা ভাঙার জন্য তারকা ফুটবলারও শাস্তি পেয়েছেন। ১৯৭৮ সালে এশিয়ান গেমসে অধিনায়ক পছন্দ না হওয়ায় আবাহনীর ছয় ফুটবলার গেমস বয়কট করেছিলেন। সেখানে কাজী সালাউদ্দিন, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু, মনোয়ার হোসেন নান্নু, দেওয়ান শফিউল আরেফিনের মতো দেশ কাঁপানো খেলোয়াড় ছিলেন। বাফুফের আদেশ অমান্য করায় তারা নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পেয়েছিলেন। ১৯৮৭ সালে লিগের বাইলজ ভাঙার দায়ে আবাহনীর অধিনায়ক শেখ মো. আসলাম ও মোহামেডানের অধিনায়ক রণজিৎকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কেরালা সাফ ফুটবলের পর তো জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম ও কোচ মারুফুল হকও শাস্তি পেয়েছিলেন। একাধিক শাস্তির ঘটনা রয়েছে। এবারে বাফুফে তো কোনোভাবেই হার্ডলাইনে যাচ্ছে না। এটাকে কি কেউ দুর্বলতা মনে করছেন?