নারী সিনিয়র ফুটবলারদের আন্দোলন ঘিরে বাফুফের অবস্থা এখনো থমথমে। সাফজয়ী ফুটবলাররা কোচ পিটার বাটলারকে বর্জন করেছেন। অনুশীলনেও যোগ দিচ্ছেন না। এমন কান্ডের জন্য বিশেষ বা তদন্ত কমিটিও গঠন হয়েছে। সাত সদস্যের এ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসান। গতকাল খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বাফুফের সভাপতির দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি। ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমরা গত শনিবার থেকে কাজ করছি, সব পক্ষের কথা শুনেছি। এর প্রেক্ষিতে আমরা কিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছি। প্রতিকারের জন্য কী কী করণীয় সেগুলো উল্লেখ করে আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’ তবে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তদন্ত কমিটির প্রধান ইমরুল হাসান। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার বাফুফের সভাপতির হাতে ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তদন্তের সময় নির্মোহ ছিল কমিটি। মেয়েরা কেন বাটলারকে চাচ্ছেন না। এ ক্ষেত্রে তারা কিছু অভিযোগও তুলেছেন। কোচ কী করেছেন সামনাসামনি শুনতে বিদ্রোহী ফুটবলারদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছে কমিটি। কোচও ছাড় পাননি। মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকেও। প্রকৃত ঘটনা বের করতে কমিটি সবকিছুই করেছে। তদন্ত করেই রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, তদন্তে থাকছে কী? এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মুখ খুলছেন না কমিটির কেউ। তবে আলাপের সময় খেলোয়াড়রা যা যা বলেছেন, তাতে কোচের দোষ বা ভুল খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাহলে বাফুফে যাকে নিয়োগ দিয়েছে সেই কোচকে বর্জন কেন?
এমনকি মেয়েরা এটাও বলেছেন, ‘প্রয়োজনে গণ অবসরে যাব। তারপরও কোচকে মেনে নেব না।’ তদন্ত কমিটি আলাপ করে বের করেছে কোচ দোষ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটাননি। সেখানে এমন অস্থির পরিস্থিতি তৈরি কেন? তাহলে এখানে কি কারও কারও বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগ থাকবে? কমিটি যা পর্যবেক্ষণ করেছে তা-ই রিপোর্টে তুলে ধরবে।
এখন শাস্তি না শোকজ তা ঠিক হবে বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায়। এত বড় ঘটনায় এককভাবে কেউ সিদ্ধান্ত দিতে চাইবেন না। পুরো কমিটিকে নিতেই হবে। তবে যেটাই নিক ভেবে চিন্তে তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে হবে। এমন কিছু করবে না যাতে পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।