ফরচুন বরিশালের সম্ভাবনা ছিল রংপুর রাইডার্সকে টপকে শীর্ষে ওঠার। খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে শুধু জিতলেই হতো না, রানরেটও বাড়াতে হতো তামিম বাহিনীকে। মিরপুরে গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে সহজেই জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু শীর্ষে ওঠার মতো রানরেট সংগ্রহ করতে পারেনি। সে জন্য ৫ উইকেটের সহজ জয়েও রংপুরের পর দুইয়েই থাকতে হয়েছে বরিশালকে। অবশ্য দুই দলের দুটি করে ম্যাচ বাকি এখনো। বিপিএলের শেষ পর্বে দারুণ ছন্দময় ক্রিকেট খেলছে ফরচুন বরিশাল। আগের ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্সকে হারিয়ে রংপুর রাইডার্সের পর হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে অফ নিশ্চিত করেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গতকাল মেহেদি হাসান মিরাজের খুলনাকে হারিয়ে তামিম বাহিনী ১০ ম্যাচে অষ্টম জয় তুলে নিয়েছে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা রংপুরের পয়েন্ট ১০ ম্যাচে সমান ১৬। রানরেট রংপুরের বেশি, ১.০৭০। বরিশালের রানরেট ১.০৩৩। টুর্নামেন্টে বরিশাল দুটি ম্যাচই হেরেছে রংপুরের কাছে।
গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বরিশালের জয়ে প্লে অফের বাকি দুই দলের লড়াই জমে উঠেছে পুরোপুরি। লড়াইয়ে টিকে রয়েছে চার দল-চিটাগং কিংস, দুর্বার রাজশাহী, খুলনা টাইগার্স ও ঢাকা ক্যাপিটালস। ৭ দলের বিপিএলে প্লে অফের রেস থেকে এর মধ্যেই ছিটকে পড়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। অবশ্য ঢাকাও ছিটকে পড়ার পাইপলাইনে উঠে গেছে। সন্ধ্যার ম্যাচে যদি দুর্বার রাজশাহী হারিয়ে দেয় সিলেটকে, তাহলে চিটাগংকে টপকে তিনে উঠে যাবে রংপুরকে হারিয়ে চমক দেখানো রাজশাহী।
গতকাল টস জিতে প্রতিপক্ষ খুলনাকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান বরিশালের অধিনায়ক তামিম। প্লে অফ খেলতে মরিয়া খুলনা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকে। বাঁ-হাতি ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ২৭ বলে ৫১ রানে ভর কলে খুলনার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৭ রান। আসরে নাইমের এটা তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। এ ছাড়া অধিনায়ক মেহেদি মিরাজ ১৮ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯, আফিফ হোসেন ধ্রুব ২৭ বলে ৩২ রান করেন। বরিশালের পক্ষে ফাহিম আশরাফ ২ উইকেট নেন ৪৯ রানের খরচে। ১৮৮ রানের টার্গেটে ৫ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় উপহার দেন বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ইংলিশ ক্রিকেটার ডেভিড মালান। ১৭০.২৭ স্ট্রাইক রেটে মালান ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন ৩৭ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায়। আসরে মালানের এটা দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। অধিনায়ক তামিম ২৫ বলে ২৭, মুশফিকুর রহিম ১৭ বলে ২৪ ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১৩ বলে ২৪ রান করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা টাইগার্স : ২০ ওভারে ১৮৭/৫ (মিরাজ ২৯, নাঈম ৫১, আফিফ ৩২, ফুলার ৩-০-৩২-১, নাবি ৪-০-২২-১, ইবাদত ৪-০-৪৫-১, ফাহিম ৪-০-৪৯-২)।
ফরচুন বরিশাল : ১৯.১ ওভারে ১৮৮/৫ (তামিম ২৭, মালান ৬৩, মুশফিক ২৪, মাহমুদউল্লাহ ২৪; আবু হায়দার ২.৪-০-৩৫-২, ইরশাদ ২.২-০-২১-১, আফিফ ১-০-১৩-১)
ফল : ফরচুন বরিশাল ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : দাভিদ মালান।