আয়ান উচ্ছ্বাস, পড়ছে ঢাকার একটি স্কুলের কেজি ওয়ানে। তার পছন্দের ফুটবলার আর্জেন্টিনার ‘ফুটবল জাদুকর’ লিওনেল মেসি। শীতের সকালে ঘুম ভাঙার পর মা তৃপ্তী জামানের হাত ধরে আসেন বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। শুক্র, শনি ও সোমবার বসুন্ধরা ফুটসাল গ্রাউন্ডে চলে উচ্ছ্বাসের ফুটবল প্রশিক্ষণ। তাই নিয়মিত আসেন মা ও উচ্ছ্বাস। ফুটসাল গ্রাউন্ডের পরিবেশ দেখে যে কারও মনে হতে পারে ইউরোপের কোনো ফুটবল ক্লাবের প্রশিক্ষণ একাডেমি! কিন্তু না, এটি বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। বিশ্বের সব দেশেই কম বেশি ফুটবল একাডেমি রয়েছে। সেটা না থাকলে হয়তো পেলে-ম্যারাডোনা কিংবা মেসি-রোনালদো জন্মাত না। এ আইকনদের বিশ্বব্যাপী আলো ছড়ানোর পেছনে ছিল সান্তোস-নাপোলি কিংবা বার্সা-রিয়ালের মতো ক্লাব। একইভাবে সে ক্লাবগুলোতে পরিপূর্ণভাবে তাদের তৈরি করে দিতে অবদান রেখেছে শত শত ফুটবল একাডেমি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ইউরোপের ফুটবল একাডেমির মতো এখানেও ‘বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমি’র তত্ত্বাবধানে চলে প্রশিক্ষণ। যা ভবিষ্যৎ ফুটবলার তৈরির কারখানা।
মো. হিমেল মিয়ার পছন্দের খেলোয়াড় দেশে তপু বর্মণ এবং বিদেশে রোমেরু। আসেন নারায়ণগঞ্জ থেকে। নিয়মিতই আসেন তিনি। হিমেল বলেন, ‘নিপু স্যার দারুণ ট্রেইনআপ করেন। তিনি খুবই সুন্দরভাবে টেকনিকগুলো ধরিয়ে দেন।’ অনুশীলন শেষে শাটল বাসে করে দূর থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের এগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। এ ছাড়া স্থপতি হতে চাওয়া আরশান বিন ইসলাম মননও এখানে আসেন। ফুটবল খেলা তার ‘হবি’। এখানে সব ধরনের সুযোগসুবিধা আছে বলে সুন্দর সময় কাটান মনন। তাদের মতো আরও আছেন কেজি ওয়ানের সাইয়ান ইন্তিয়াজ রাহিন ও ক্লাস থ্রির সিরাজুস সালেকিন। মেসি, রোনালদোদের মতো এখন তাদের কাছে আরেক পরিচিত নাম বাংলার ছেলে হামজা চৌধুরী। তিনি এখন তাদের কাছে ‘আইকন’। অপেক্ষায় আছেন বাংলাদেশের জার্সিতে তার অভিষেকের।
আয়ানের অভিভাবক তৃপ্তী জামান বলেন, ‘আমার ইচ্ছা সন্তানকে খেলোয়াড় বানাব। গেল ফুটবল বিশ্বকাপের সময় ছেলেও মেসিকে নিয়ে উল্লাস করেছে। সেও ফুটবল খেলতে চায়। তাই এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে এখানে ভর্তি করেছি।’ একই কথা জানিয়েছেন রাজধানীর উত্তরা থেকে আসা ফজলে রাইয়ান হুসাইনের মা রহিমা খাতুন মুন্নি। তিনি কোচদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগসুবিধার প্রশংসা করেন। ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর শুরু হয় এ ফুটবল ট্রেনিং ক্যাম্প। বয়সভিত্তিক চারটি স্তরে এখানে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের আড়াই শর মতো শিক্ষানবিশ। যাদের স্বপ্ন, লাল-সবুজের দেশ খেলবে ফিফা বিশ্বকাপে। আর সে লক্ষ্যেই তাদের নিয়ে আধুনিক ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমি’।
সরেজমিন দেখা যায়, গতকাল সকালে কিংস অ্যারেনার ফুটসাল গ্রাউন্ডের চারটি মাঠে চারজন কোচের তত্ত্বাবধানে চলছে প্রশিক্ষণ। মূলত ৬-৮, ৯-১১, ১২-১৪ ও ১৫-১৮ বছরের বয়সভিত্তিক চারটি বিভাগে ট্রেনিং ক্যাম্প। কোচ আবু জুবায়ের নিপু বলেন, ‘চারটি স্তরে আমরা ট্রেনিং করাচ্ছি। ছোটদের একাডেমিক পদ্ধতিতে শেখানো যাবে না। তাই আমরা তাদের মজার ছলে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এ ছাড়া ৯-১১ বছরের খেলোয়াড়দের ফান্ডামেন্টাল, ১২-১৪ বছর ফরমেটিভ ও ১৫-১৮ বছরের প্রশিক্ষণার্থীদের ফাইনাল ফেইজে ট্রেনআপ করা হচ্ছে। গত তিন মাসে বেশ অগ্রগতি হয়েছে তাদের। আমরাও আত্মবিশ্বাসী ইয়ামালদের মতো তরুণ ফুটবলার পেতে। তবে এ ক্ষেত্রে তরুণ ফুটবলারদের ইচ্ছা শক্তি গুরুত্বপূর্ণ।