টানা দুবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মেয়েরা। এমন সাফল্যে দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন তারা। পুরস্কৃতও হয়েছেন, কথা হচ্ছে ফুটবল ফেডারেশন নারীদের কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তখনকার সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাতে মনে হয়েছিল মেয়েরা আর কোনো কিছুতেই বঞ্চিত হবেন না। নিয়মিত মাঠে থাকা অর্থ সবকিছুই মিলবে। নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজুর আক্তার কিরণও সালাউদ্দিনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে প্রতিশ্রুতির ঝড় বইয়ে দেন। সহজ-সরল মেয়েরাও ভেবেছিলেন ভাগ্য তাদের খুলে গেছে।
বাস্তবে দেখা গেল সবকিছু মুখেই সীমাবদ্ধ। তার কোনো প্রতিফলন নেই। সুযোগসুবিধা তো দূরের কথা সাবিনাদের মাঠে থাকাটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিরণের কত না কথা, মেয়েরা দেশে-বিদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলবে শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে। অথচ লোকাল লিগেরই বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন নারী কমিটির প্রধান। এ যেন রক্ষক হয়ে ভক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালে সাফ জেতার পর দীর্ঘ ১০ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন নারী জাতীয় দলের ফুটবলারা। অর্থ সংকটের মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে অলিম্পিক বাছাই পর্বেও খেলতে দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালে টানা দ্বিতীয়বার সাফ জেতার পরও মেয়েরা শুধু প্রতিশ্রুতিতেই বন্দি। সাফল্যে কম-বেশি পুরস্কার পেলেও মেয়েদের আরও মানোন্নয়নে কোনো পরিকল্পনা নেই বাফুফের। অবশ্য তাবিথের নেতৃত্বে নতুন কমিটির দায়িত্বও বেশি দিনের হয়নি। আগের কমিটি শুধু মিথ্যা আশ্বাসই দিয়ে গেছে। ভালো কাজের নমুনা একটাও দেখাতে পারেনি। তাহলে প্রশ্ন উঠবে নারী জাতীয় দল টানা দুবার শিরোপা জিতল কীভাবে? এ ক্ষেত্রে যদি বাফুফের চেয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের অবদান বেশি বলি তাহলে কি বাড়িয়ে বলা হবে? সাফে সাফল্যের পেছনে বড় কারণটা তো ছিল মেয়েদের মাঠে থাকা। নারী লিগ চালু করার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না ফেডারেশন। বসুন্ধরা গ্রুপই স্পন্সর করায় দীর্ঘদিন পর লিগ মাঠে গড়িয়েছিল। বড় কোনো ক্লাব অংশ না নিলেও বসুন্ধরা কিংস ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে ঠিকই দল গঠন করেছিল। যে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল তা কখনো কোনো ক্লাব দেয়নি।
বাফুফে ভবনে মেয়েদের স্থায়ী ক্যাম্প ও অনুশীলন হলেও পেশাদারি বলতে যা বোঝায় মেয়েরা তা পেয়েছিল কিংসে খেলেই। এই দলে খেলে আত্মবিশ্বাসটা উঠেছিল তুঙ্গে। যে কারণে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টিম স্পিরিট ছিল আলাদা। যা তৈরি হয়েছে কিংসে খেলেই। অথচ কিরণদের আচরণে কিংস অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নারী লিগ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। কিংস ছাড়া লিগ ঠিকই মাঠে গড়িয়েছিল তাকে কি লিগ বলা যায়? সাবিনা, তহুরা, সানজিদারা এক দলে খেলে চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন। এরপরও কি তারা সন্তুষ্ট ছিলেন। নারী লিগে বড় দলকে খেলাতে পেশাদার লিগের ক্লাবগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন কিরণ। এ বৈঠক নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কেননা ক্লাবগুলোর সঙ্গে বৈঠক হবে তার অনুমতি কি পেশাদার লিগ কমিটি থেকে নেওয়া হয়েছিল? বড় কর্মকর্তা হয়েও যদি নিয়ম না মানেন তাহলে অন্যরা কী করবেন।
সাফে নারী জাতীয় দলের টানা দুই শিরোপা। বয়সভিত্তিক ফুটবলেও সাফল্য আসছে। এরপরও হযবরল অবস্থা কাটছে না। নারী কমিটির প্রধানের কর্মকাণ্ডে এমন অবস্থা দেখে অনেকে মনে করেন মেয়েদের নিয়ে তিনি যেন ছেলেখেলা খেলছেন। বলছেন, প্রীতি ম্যাচের কথা, আবার তা পরিবর্তন করে বলছেন এখন নয়, পরে দেখা যাবে। এভাবেই কি চলবে নারী ফুটবল। যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন না তা বলেন কীভাবে?