নিউইয়র্ক সিটির সাবওয়েতে রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলাচলকারী প্রতিটি ট্রেনে দু’জন করে পুলিশ মোতায়েনের ঘোষণা দেন স্টেট গভর্নর ক্যাথি হোকুল। তার ঘোষণার পরদিনই ম্যানহাটানে পেন স্টেশনে ২০ বছর বয়েসী এক দুর্বৃত্ত ৪৫ বছরের এক যাত্রীকে নির্দয়ভাবে মারধর করেছে।
শুক্রবার রাত ৮টায় ২ নম্বর ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীকে আক্রমণের সময় অন্য সবাই হতবাক হয়ে পড়েন এবং সকলেই ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এমটিএ মুখপাত্র আরও জানান, ওই দুর্বৃত্ত কোনও ধরনের বাকবিতণ্ডা ছাড়াই বয়স্ক লোকটির মুখে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে ওই যাত্রীও পাল্টা আক্রমণ চালান দুর্বৃত্তকে। এমতাবস্থায় ট্রেন পৌঁছে যায় প্লাটফর্মে। ট্রেনে থাকা পুলিশ উভয়কেই গ্রেফতার করেছে। এজন্য এই লাইনে কিছুক্ষণ ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। কারণ, মারপিটে উভয়েরই রক্ত ঝরেছে। সেই রক্ত পরিষ্কার করার পরই পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয় বলে পুলিশ ও এমটিএ জানায়।
উল্লেখ্য, ২০ জানয়ারি থেকে প্রতিটি ট্রেনেই দু’জন করে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরেই সাবওয়েতে দুর্বৃত্তের ধাক্কায় ১০ যাত্রীর প্রাণ গেছে। কয়েক ডজন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ফলে রাতে চলাচলকারী যাত্রীরা এক ধরনের অস্বস্তি নিয়ে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরেন। এ নিয়ে অনেক অভিযোগের পরই সাবওয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্টেট গভর্নর বিশেষ এই কর্মসূচির পাশাপাশি গোলযোগ বেশি হওয়া স্টেশনে এবং তার আশেপাশে টহল পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন। এটা পরীক্ষামূলকভাবে এক মাস চলবে। তারপর গ্রহণ করা হবে পরবর্তী প্রক্রিয়া।
স্টেট গভর্নর বলেছেন, সাবওয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তায় সবকিছু করা হবে। এজন্য যত অর্থ প্রয়োজন তাও ব্যয় করতে স্টেট প্রশাসন দ্বিধা করবে না বলে উল্লেখ করেছেন ক্যাথি হোকুল।
টহল পুলিশ তৎপর হওয়ার পরও শনিবার দিনভর বিভিন্ন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের একবারে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে ট্রেনের জন্যে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অর্থাৎ দুর্বৃত্তরা আচমকা ধাক্কা দিলেও রেল লাইনে পড়তে হবে না। ৩১ ডিসেম্বর ওয়েস্ট ১৮ স্ট্রিট সাবওয়েতে যোসেফ লিনস্কি নামক এক যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে রেল লাইনের ওপর ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। সেই দুর্বৃত্ত কামেল হোকিন্সকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও যাত্রীরা স্বস্তি বোধ করছেন না।
বিডি প্রতিদিন/একেএ