রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে অবস্থিত ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমান (রহ.) জামে মসজিদে মহিলাদের জন্য জুমার নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। আর এ ব্যবস্থা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
জুমার নামাজ আদায় করতে পেরে ধর্মপ্রাণ মহিলা মুসল্লিরাও বেশ খুশি।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমান (রহ.) জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে মহিলাদের জন্য জুমার নামাজের সুব্যবস্থা। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে মহিলারা এখানে নামাজ পড়তে আসেন।
এখানে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে পেরে বেশ খুশি মহিলা মুসল্লিরা। ফাতেমা নামে এক মুসল্লি সপরিবারে এসেছেন নামাজ আদায় করতে।
তিনি বলেন, আমার শ্বশুর, শাশুড়ি ও ছেলেকে নিয়ে এখানে নামাজ পড়তে এসেছি। একসঙ্গে সবাই এক জায়গায় নামাজ আদায় করতে পারব বলে সপরিবারে এসেছি। আজকেই প্রথম চালু হয়েছে এই সুব্যবস্থা। আশা করি পরবর্তী জুমায় এই মসজিদে মহিলা মুসল্লির সংখ্যা আরও বাড়বে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডি ব্লক থেকে জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন ইয়াকুব হোসেন। তিনি এ মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। ইয়াকুব হোসেন বলেন, এ মসজিদে মহিলা মুসল্লিদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা চালু করা হবে শুনেছিলাম। আজকে দেখলাম সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে এখানে নামাজ আদায় করব ইনশাআল্লাহ।
আব্দুর রহমান নামের এক মুসল্লি বলেন, বসুন্ধরা আবাসিকের মধ্যে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে নামাজ পড়ার যে এত সুন্দর মসজিদ চালু হয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আশা করি ধীরে ধীরে বিষয়টি সবাই জানবে। তখন মুসল্লির সংখ্যা বাড়বে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য জুমার নামাজের ব্যবস্থা থাকায় কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
মসজিদের খতিব নূর মোহাম্মদ জুমার নামাজের পর দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের সার্বিক মঙ্গল কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।
জানা গেছে, সম্পূর্ণ নিজস্ব পরিকল্পনা ও বসুন্ধরা গ্রুপের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণাধীন মসজিদটি সুযোগ-সুবিধা ও আয়তনে দেশের সব চেয়ে বড়। আট বিঘা জমির ওপর ১০ তলাবিশিষ্ট এ মসজিদে একসঙ্গে ৭০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
এ মসজিদে থাকছে চলন্ত সিঁড়িসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। মসজিদের প্রতি তলায় ৫০ হাজার বর্গফুট জায়গা রয়েছে। প্রতি তলায় নামাজের কাতার হবে ৪৫টি। প্রতি কাতারে ২০০ জন মুসল্লি দাঁড়াতে পারবেন।