এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কন্ট্রোল রুমে পাকিস্তানি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে মেসেজ দিয়ে রোমের ফ্লাইটটিতে বিস্ফোরক দ্রব্য থাকার আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর চৌধুরী।
বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিস্ফোরক থাকার তথ্য প্রথম এপিবিএনের কাছে আসে। সেখান থেকে অপারেশন কন্ট্রোল রুমে জানানো হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করি। আমি এয়ার চিফকে বিষয়টি অবহিত করার পরপরই সেখান থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি। এছাড়া, অ্যাভসেকসহ বিমানবন্দরে কর্মরত অন্য সব সংস্থা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘যেকোনো ধরনের হুমকি এলে আমাদের এরকমই পদক্ষেপ নিতে হয়। আমাদের কাছে একজন যাত্রীর জীবন অনেক মূল্যবান। যদি ওই ফ্লাইটে একজনও যাত্রী থাকতো আমরা একই ধরনের পদক্ষেপ নিতাম। আমরা দীর্ঘ তল্লাশির পরও কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। প্রতিটি যাত্রী সহযোগিতা করেছেন। তাদের কোনো কিছু খোয়াও যায়নি। খুব সুন্দরভাবে এই কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এপিবিএন এর কন্ট্রোল রুমে পাকিস্তানি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে এই মেসেজ দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর চৌধুরী আরও বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য দিয়ে আমাদের একদিকে ব্যস্ত রেখে অন্যদিকে কেউ যেন কোনো অঘটন ঘটাতে না পারে, সেই কারণে পুরো বিমানবন্দর জুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি ছিল। এ সময় ইমিগ্রেশন-কাস্টম সবকিছুই সচল ছিল। ওঠানামাও স্বাভাবিক ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের এই বিমানবন্দরকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও কোনো কিছু পাওয়া যায়নি, তারপরও ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের ব্যবস্থা রাখব।’
প্রসঙ্গত, বুধবার রোম থেকে আসা বাংলাদেশি এক ফ্লাইটে বিস্ফোরক দ্রব্য আছে বলে তথ্য আসে। পরে ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরে কর্মরত নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনেন। সেই সঙ্গে বিমানে তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টা এই অভিযান চললেও কিছুই পাওয়া যায়নি।
বিডি প্রতিদিন/কেএ