৩৪ মিলিয়ন বছর আগে, উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে একদল ইগুয়ানা রওনা হয় এক অভূতপূর্ব অভিযানে। তারা প্রায় ৫,০০০ মাইল (৮,০০০ কিলোমিটার) প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ফিজিতে পৌঁছায়।
সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, এই দীর্ঘ পথ তারা পাড়ি দিয়েছে ভাসমান গাছপালার ওপর ভর করে।
জেনেটিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষকরা দেখিয়েছেন, ফিজির এই ইগুয়ানাগুলো উত্তর আমেরিকার ডিপসোসরাস প্রজাতির কাছের আত্মীয়। অর্থাৎ, এদের পূর্বপুরুষরা উত্তর আমেরিকা থেকে এসেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক ড. সাইমন স্কার্পেটা বলেন, এই ধরনের সমুদ্রযাত্রাকে ‘সুইপস্টেকস ডিসপারসাল’ বলা হয়- যেখানে কোনো বিরল ঘটনা প্রাণীদের নতুন স্থানে বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দেয়।
১৯৯৫ সালে ক্যারিবীয় অঞ্চলের অ্যাঙ্গুইলা দ্বীপের উপকূলে এক ঝড়ের পর ১৫টি সবুজ ইগুয়ানা ভেসে আসার ঘটনা গবেষকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলে।
কিভাবে সম্ভব হলো এত দীর্ঘ যাত্রা?
গবেষকরা বলছেন, ইগুয়ানারা এমন একদল সরীসৃপ, যারা দীর্ঘ সময় খাদ্য ও পানি ছাড়াই টিকে থাকতে পারে। বিশেষ করে মরুভূমির ইগুয়ানারা প্রচণ্ড গরম ও প্রতিকূল পরিবেশে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
এছাড়া, ঠাণ্ডা রক্তবিশিষ্ট প্রাণী হওয়ায় এরা কম শক্তি ব্যয় করে। তাই দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায়ও তাদের টিকে থাকা সম্ভব হয়েছে।
গবেষণা বলছে, উত্তর আমেরিকা থেকে ফিজি পর্যন্ত এই যাত্রা চার থেকে বারো মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে নতুন মডেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি সম্ভবত আড়াই থেকে চার মাসে শেষ হয়েছিল।
এই গবেষণাটি বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি দেখায় যে, শুধুমাত্র স্থলপথ নয়, জলপথেও প্রাণীরা নতুন এলাকায় বসতি স্থাপন করতে পারে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল