পবিত্র রমজান মাস ও ঈদে নগরবাসীর নিরাপত্তায় কাজ করবে অক্সিলারি ফোর্স। পুলিশের জনবলস্বল্পতার কারণে বেসরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ‘অক্সিলারি ফোর্স’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ‘মেট্রোপলিটন পুলিশ’ অর্ডিন্যান্সে কমিশনারের ক্ষমতাবলে তিনি এই ফোর্স নিয়োগ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) শেখ মো. সাজ্জাত আলী। গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক, যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) রবিউল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, রমনার ডিসি মাসুদ আলম।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, আবাসিক এলাকা, বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীরা অক্সিলিয়ারি পুলিশ ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন। তাদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকবে। পুলিশকে সহায়তাকারী হিসেবে ৫০০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তাদের হাতে একটা ব্যান্ড থাকবে। তাতে লেখা থাকবে ‘সহায়ক পুলিশ কর্মকর্তা’। আইন মোতাবেক, আমি বা আমার পুলিশ অফিসার যে ক্ষমতা ভোগ করেন, যে দায়িত্ব পালন করেন, সেই একইরূপ দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো ব্যক্তিকে উনারা গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাবেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অফিসাররা আইনি যে প্রটেকশন পান, উনারাও সেই প্রটেকশন পাবেন। সেই কার্যক্রম শুরু করেছি। তিনি আরও বলেন, ‘দিস ম্যান সার্টিফায়েড বাই পুলিশ কমিশনার, হি ইজ সিম্পলি পুলিশ অফিসার। হি ইজ রিগার্ডেড অ্যাজ এ পুলিশ অফিসার’।
মব জাস্টিসের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, যেকোনো জায়গায় অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, কোনো বাড়িতে, কোনো অফিসে স্বর্ণ আছে, টাকা আছে- এমন খবর পাওয়ার কোনো ভাবে, কোনো ব্যক্তির অধিকার নেই। অভিযান চালিয়ে সেই বাসা বা অফিস তছনছ করার অধিকার নেই। এ ব্যাপারে আমরা কঠোর। দু-তিনটি ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠিন মামলা নিয়েছি। এ সময় ডিএমপি কমিশনার জনমনে ভীতির সৃষ্টি হয় গণমাধ্যমে এমন খবর বারবার প্রচার না করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে মিশন, আপনাদেরও সেই একই মিশন। পেশাগতভাবে আপনারা একদিকে আছেন, আমরা একদিকে আছি। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা এমন কোনো ঘটনা দেখাবেন না, যাতে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বনশ্রীর ডাকাতির ঘটনা যে পরিমাণ ভাইরাল হয়েছে, তাতে জনমনে ভীতির সৃষ্টি হয়। একই ঘটনা যদি একাধিকবার প্রকাশ করেন, তাতে অনেক শিশু, অনেক বৃদ্ধ, অনেক দুর্বল চিত্তের লোকের মধ্যে বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়।’