রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের সঙ্গে মস্কো একমত। তবে এটা বাস্তবায়নের জন্য কিছু শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক সমাধান হলে চলবে না; এর মাধ্যমে সংঘাতের মূল কারণও দূর করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রেমলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। তবে এটি এমন হতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করবে এবং সংকটের মূলোৎপাটন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও ট্রাম্পের প্রস্তাব
২০২২ সালে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর থেকে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক চরম উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা শীতল যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সংঘাতের রূপ নিয়েছে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে রাশিয়ার সেনারা বেশ কিছু এলাকা দখল করে নিয়েছে এবং বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসে বলেন, ইউক্রেন এই যুদ্ধবিরতির পক্ষে রয়েছে এবং তিনি আশা করছেন, ক্রেমলিনও এটি মেনে নেবে। ট্রাম্প যুদ্ধকে ‘রক্তস্নান (bloodbath)’ বলে অভিহিত করে ৩০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
পুতিন এ প্রস্তাবের প্রশংসা করে বলেন, প্রস্তাবের মূল ভাবনা ঠিক আছে, এবং আমরা একে সমর্থন করি। তবে বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। আমাদের আমেরিকান সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, রুশ সেনারা পশ্চিম রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে। সেখানে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। বুধবার পুতিন সামরিক ইউনিফর্ম পরে কুরস্কের একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন এবং সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই, তবে সেটা হতে হবে কার্যকর ও টেকসই।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল