অস্ট্রেলিয়ার প্রথম থ্রি-ডি প্রিন্টেড বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে প্রচলিত নির্মাণ পদ্ধতির মতো এখানে নেই ইট-বালু-সিমেন্টের ভাঙার শব্দ বা ধুলোবালি। আধুনিক থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ভবন নির্মাণ করছেন মেলবোর্নের বাসিন্দা আহমেদ মাহিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ানের’ এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, থ্রি-ডি কংক্রিট প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘লুয়টেন’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহিল। তবে এটি কেবল ব্যবসার জন্য নয়, তিনি নিজের বসবাসের জন্যই থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে এই ভবন নির্মাণ করছেন।
এ বিষয়ে মাহিল বলেন, “থ্রি-ডি প্রিন্টের মাধ্যমে বাড়ি তৈরি প্রচলিত নির্মাণ পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। শুধু বিক্রির জন্য আমি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করি না, আমি এর পেছনের বিজ্ঞানে বিশ্বাস করি। তাই নিজের জন্যও বাড়ি নির্মাণ করছি।”
জরিপ বলছে, অস্ট্রেলিয়ায় গত ১৫ বছরে বাড়ি নির্মাণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মাস্টার বিল্ডার্সের তথ্য অনুযায়ী, একতলা একটি বাড়ি নির্মাণে আগে যেখানে ৯ মাস লাগত, এখন সেখানে সময় বেড়ে হয়েছে ১২.৭ মাস—যা ১৫ বছর আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
বহুতল ভবনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আগে যেখানে গড় নির্মাণ সময় ছিল ১৮.৫ মাস, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.৩ মাস। এই দীর্ঘসময় অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন সংকটকে আরও প্রকট করেছে। মাহিলের মতে, থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি এই সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে।
মাত্র ৫ সপ্তাহেই প্রস্তুত পুরো বাড়ি!
মাহিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তার নির্মাণাধীন ভবনটি হবে চারটি শোবার ঘর ও পাঁচটি শৌচাগার বিশিষ্ট। তিনি বলেন, “প্রিন্টিং প্রক্রিয়া শেষ হবে মাত্র তিন সপ্তাহে। এরপর বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাঠামো স্থাপন করতে লাগবে আরও দুই সপ্তাহ। সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই বাড়িটি বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে।”
সাশ্রয়ী হলেও আরও গবেষণা প্রয়োজন
এখনও থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে বাড়ি নির্মাণের খরচ নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়নি। তবে মাহিলের দাবি, প্রচলিত নির্মাণ পদ্ধতির তুলনায় এতে খরচ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম।
মাহিলের ভবনটি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম থ্রি-ডি প্রিন্টেড বহুতল ভবন হলেও দেশটিতে ইতোমধ্যেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি, সরকারি প্রকল্পেও থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সামাজিক আবাসন প্রকল্প ‘ডাব্বো’তে এই পদ্ধতিতেই নির্মাণকাজ পরিচালিত হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, প্রকল্পে ৮ লাখ ১৪ হাজার ডলার ব্যয় হয়েছে, যা প্রচলিত নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশ কম।
নিউ সাউথ ওয়েলসের গৃহায়ণ মন্ত্রী রোজ জ্যাকসন বলেন, “থ্রি-ডি প্রিন্টিং গৃহায়ন খাতে সত্যিকারের গেম চেঞ্জার। এতে সময় কম লাগে, খরচ সাশ্রয় হয়, একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধবও।”
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বিডি প্রতিদিন/আশিক