চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন তিনি। একের পর এক সিদ্ধান্তে প্রতিদিনই খবরের শিরোনাম হচ্ছেন ট্রাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় আবারও সংবাদের শিরোনামে তিনি। এবার মার্কিন নাগরিকত্ব ইস্যুতে ‘গোল্ড কার্ড’ নিয়ে আলোচনায় তিনি। তবে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রিন কার্ড’ নামে দেশটিতে বসবাসের জন্য এক ধরনের অনুমতিপত্র চালু আছে। এটির ‘বিকল্প’ হিসেবে ‘গোল্ড কার্ড’ নামে নতুন একটি অনুমোদন আনার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু এটি পেতে খরচ করতে হবে পাঁচ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি অর্থে ৬০ কোটি টাকারও বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ইবি-৫ ইমিগ্রেশন ইনভেস্টর ভিসা। এই ভিসাটির স্থলাভিষিক্তই হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের ‘গোল্ড কার্ড’।
গ্রিন কার্ড ও গোল্ড কার্ডের মধ্যে পার্থক্য কী?
যুক্তরাষ্ট্রে যেসব বিদেশি ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেন ও নতুন চাকরি সৃষ্টি করেন তাদের ‘ইবি-৫ ইমিগ্রেশন ইনভেস্টর প্রোগ্রাম’ এর আওতায় গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়। ট্রাম্পের ইচ্ছা হলো- এই প্রোগ্রামটির জায়গায় নতুন কিছু নিয়ে আসা। এজন্যই তিনি ৫০ লাখ ডলারের ‘গোল্ড কার্ড’ সামনে নিয়ে এসেছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, এটি বিদেশিদের আবাসনের অনুমতি দেবে। তবে বিশেষ করে যারা ধনী ব্যক্তি, তারা চাইলে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি কিনতে পারবেন। এছাড়া এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের পথের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
গ্রিন কার্ড বনাম গোল্ড কার্ড
গ্রিন কার্ড: যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী আবাসনের অনুমতি হলো গ্রিন কার্ড। এটি দেওয়া হয় চাকরি, পরিবারের স্পন্সরশিপ এবং বিনিয়োগের (ইবি-৫ ভিসা) ওপর নির্ভর করে।
গোল্ড কার্ড: গোল্ড কার্ডও ঠিক একই সুবিধা দেবে। তবে এরজন্য খরচ করতে হবে ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া এর মাধ্যমে ধনী ব্যক্তিরা খুব সহজে এবং দ্রুত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পাবেন।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই গোল্ড কার্ডের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করা যাবে। যা সরকারের ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হবে। তিনি ১০ লাখ গোল্ড কার্ড বিক্রির পরিকল্পনা করছেন। তার ধারণা ধনী ব্যক্তিরা এই পোগ্রামে ব্যাপক সাড়া দেবেন।
কেন ‘গ্রিন কার্ডের’ জায়গায় ‘গোল্ড কার্ড’ আনার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প?
ইবি-৫ ভিসা পোগ্রামটি ১৯৯২ সালে শুরু করে মার্কিন কংগ্রেস। ওই সময় বিদেশিদের সহজে গ্রিন কার্ড প্রাপ্তির সুবিধার্থে এটি শুরু করা হয়। এই কার্ড পাওয়ার শর্ত ছিল ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা। অপরদিকে ‘অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত স্থানে’ ৮ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটির মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের অর্থ যোগাড়ে সহায়ক হয়েছে। তবে এই কার্ডের অপব্যবহারও হয়েছে অনেক। এ কারণে প্রথমবার প্রেসিসডেন্ট থাকার সময় ট্রাম্প এই গ্রিন কার্ডের দাম ১৮ লাখ ডলার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এরপর জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে কার্ডটির মূল্য ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করে দেন।
যে কেউ চাইলেই পাবেন গোল্ড কার্ড?
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যে কেউ অর্থের মাধ্যমে গোল্ড কার্ড কিনে নিতে পারবেন। এমনকি রাশিয়ান ধনকুবেররাও এটি নিতে পারবেন। সূত্র: আল-জাজিরা, সিএনএন, রয়টার্স, এপি
বিডি প্রতিদিন/একেএ