মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মাঝ–আকাশে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ও সামরিক হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষের পর নদীতে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৬৭ আরোহীর কেউ বেঁচে নেই। এই ঘটনার পরপর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে বিমান নিরাপত্তা নীতির অবনতি ঘটানোর জন্য দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই, কিন্তু ওবামা, বাইডেন এবং ডেমোক্র্যাটরা নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।’
ট্রাম্প দাবি করেন, ওবামা ও বাইডেন প্রশাসনের সময় ‘ডাইভার্সিটি হায়ারিং’ নীতির ফলে দক্ষতার চেয়ে জাতিগত ও লিঙ্গভিত্তিক নিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বিমান নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে।
ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, বুধবার ( ২৯ জানুয়ারি) রাতে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সঙ্গে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের ধাক্কা লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
কারণ জানা না গেলেও এই দুর্ঘটনার জন্য তিনি তার পূর্বসূরিদের জাতি বা লিঙ্গভিত্তিক অগ্রাধিকারের ‘ডাইভার্সিটি’ উদ্যোগকে দুষছেন। বলেছেন, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের জন্য যাদেরকে নিয়োগ করা হয়ে এসেছে, তারা সবসময় যে যোগ্য লোক তা নয়।
ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ব্রিফিং শুরু করার আগে ওয়াশিংটনের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে তিনি ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হিসেবে ক্রিস রোশেলাউকে নিয়োগ দিচ্ছেন। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন আমেরিকান এয়ারলাইনসের বিমানটি সেনাবাহিনীর ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পটোম্যাক নদীতে বিধ্বস্ত হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দমকল প্রধান জন ডোনেলি বলেন, ‘আমরা মনে করি না কেউ বেঁচে আছে। আমরা এখন উদ্ধার অভিযান থেকে মরদেহ পুনরুদ্ধার অভিযানে রূপান্তর করছি।’
স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের রানওয়ে ৩৩-এর কাছাকাছি বিমানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যাত্রীবাহী বিমানটিতে মোট ৬০ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। আর হেলিকপ্টারে ৩ জন মার্কিন সৈন্য ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম