সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মারা যায় ১৭৬ জন।
গত মাসে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দর থেকে কংক্রিটের বাঁধ সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। সেই বাঁধের ঢালের কারণেই দুর্ঘটনায় বেশি মানুষ মারা যান বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, গত মাসের জেজু এয়ার বিমান দুর্ঘটনার কারণে সিউলের মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কংক্রিটের বাঁধ সরিয়ে ফেলবেন তারা। তদন্তকারীরা এখনো সেই দুর্ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করছেন। সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে পাখি এসে পড়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রানওয়ের শেষে থাকা বিশালাকার কংক্রিটের বাঁধ ও তার পাশের ঢাল, যেখানে ন্যাভিগেশন অ্যান্টেনা লাগানো ছিল, তার কারণেই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, মুয়ানসহ মোট সাতটি বিমানবন্দরে নতুন করে অ্যান্টেনা বসানো হবে। এই প্রস্তাবটি দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর জেজু বিমানবন্দরের জন্যেও প্রযোজ্য হবে।
মাটির স্তরের চেয়ে কিছুটা নিচু তলে ও কংক্রিটের বদলে সহজে ভেঙে যায়, এমন কিছুর ওপর বসানো হবে অ্যান্টেনা। এই অ্যান্টেনাগুলো বিমানবন্দরে বিমানকে নামতে সাহায্য করা ‘ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেমস’ বা আইএলএস ব্যবস্থার ‘লোকালাইজার’ হিসেবে কাজ করবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ ডিসেম্বরের এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৭৯ জন, প্রাণে বেঁচে যান বিমানের একদম পেছনে থাকা দু’জন ক্রু সদস্য। সেদিনের ভিডিওতে দেখা যায় কীভাবে বিমানটি প্রবল গতিতে গিয়ার ছাড়া ল্যান্ড করার সময় ফেটে যায়, কংক্রিটের সাথে ধাক্কা খায় ও তারপর রানওয়েতে পিছলে যায়।
সূত্র : এএফপি।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত