পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি হিসাবের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা পর্যন্ত আমৃত্যু পুনঃবিনিয়োগ সুবিধা পাবেন। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর বা তারপর মেয়াদোত্তীর্ণ হবে, সেসব সঞ্চয়পত্র এই সুবিধা পাবে।
ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ইস্যু করা সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। তবে প্রতিবার পুনঃবিনিয়োগের জন্য অনলাইন বা সশরীরে গ্রাহকের সম্মতি নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা পর্যন্ত পুনঃবিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে। ঊর্ধ্বসীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এ ছাড়া জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় বিনিয়োগকারী ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে পুনঃবিনিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। চাইলে ইস্যুকারী ব্যাংক, ডাকঘরে উপস্থিত হয়েও পুনঃবিনিয়োগের জন্য আবেদন করা যাবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ইস্যু করা ওয়েজ আর্নার বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের মতো একই মেয়াদে পুনঃবিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে। পুনঃবিনিয়োগের জন্য অনলাইনে বা ইস্যুকারী দপ্তরে গিয়ে গ্রাহককে সম্মতি দিতে হবে। পুনঃবিনিয়োগের সময় বিনিয়োগকারীর আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সঞ্চয়পত্রের অর্থ পুনরায় বিনিয়োগের তারিখে নির্ধারিত মুনাফা হার ও স্লাব প্রযোজ্য হবে। মুনাফাসহ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উৎসে কর কেটে রাখার পর যে নিট মুনাফা হবে, তা পুনঃবিনিয়োগের সুবিধায় আসবে। মৃত ব্যক্তির নমিনি কিংবা উত্তরাধিকারী পুনঃবিনিয়োগের সুবিধা প্রাপ্য হবেন না। যেসব সঞ্চয় স্কিম লিয়েন অথবা স্থগিত রয়েছে, সে সব স্কিম পুনঃবিনিয়োগের সুবিধা পাবে না বলে জানান হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রে পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা পাবেন না। যেমন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কোম্পানি ভবিষ্যৎ তহবিলের অর্থ। মৎস্য, পোলট্রি, কৃষি ফার্ম ও অটিস্টিক বা প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে। এসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে মেয়াদ শেষে নতুন করে বিনিয়োগের আবেদন করতে হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রগামী জাহাজে চাকরিরত বাংলাদেশি নাবিক (মেরিনার) ও এয়ারওয়েজ কোম্পানিতে চাকরিরত বাংলাদেশি পাইলট ও কেবিন ক্রুরা ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এ ছাড়া ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডের এক মেয়াদে বিনিয়োগ, দুই মেয়াদে পুনর্বিনিয়োগ, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে এক মেয়াদে বিনিয়োগ ও চার মেয়াদে পুনর্বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।