জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা আমরা কোনো মেজরিটি মাইনরিটি মানি না। আমরা আমাদের প্রতিবেশীকে কষ্ট দিতে চাই না। তবে আমাদের প্রতিবেশীও যেন আমাদের ওপর এমন কোনো কিছু চাপিয়ে না দেয়, যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সম্মানজনক নয়, অপমানজনক। যদি এরকম কিছু তারা করে তাহলে দেশের স্বার্থে ভূমিকা পালন করতে আমরা কারও চোখের দিকে তাকাব না। গতকাল দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশকে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা বাংলাদেশকে আর গডফাদারের দেশ দেখতে চাই না। গডমাদারের দেশ দেখতে চাই না। মাফিয়াতন্ত্রের দেশ দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদের বাংলাদেশ দেখতে চাই না। এ সময় তিনি ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিনে পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীর আউলিয়াঘাটে নৌকাডুবিতে নিহত সনাতন ধর্মাবলম্বী ভূপেন্দ্রনাথ ও রূপালী রানীর শিশুসন্তান দিপুর লেখাপড়ার দায়িত্ব জামায়াতে ইসলামী নিয়েছে বলে জানান। জামায়াত আমির বলেন, আমাদের কেউ কেউ এখনো মাঝে মাঝে ভয় দেখান, ধিক্কার দেখান, তারা বলেন এই হলে ওই হলে আবার আপনাদের ফাঁসি হবে, আরে ভাই কারে ফাঁসির ভয় দেখান, যারা শহীদ হওয়ার জন্য উন্মুখ, যারা পাগল তাদের ফাঁসির ভয় দেখান? এ ভয় করলে আমাদের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়াতে হতো না, পাটাতনের ওপর দাঁড়াতে হতো না এবং ফাঁসির রশি গলায় নিতে হতো না। তারা হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে গেছেন। সুতরাং আমাদের ভাই ভয় দেখাবেন না কেউ। তিনি বলেন, ২০০৬-এর ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা ফ্যাসিবাদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের আমরা স্মরণ করছি। যুবকদের জেগে উঠতে হবে। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।
মানুষের মুক্তির মিছিলে আমি পিছিয়ে থাকব না ইনশাআল্লাহ। সামনে থাকব। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘১৫ মাস জেল খাটার পর আমি প্রথমে পঞ্চগড় সফর করি। এ সময় আমি এ শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তাদের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিই। কিন্তু আমি দেখলাম আমরা যাবার পরের দিন এই এলাকার তৎকালীন সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রী গেছেন। তারা গিয়ে বলেছেন, যে এ বাচ্চার দায়িত্ব তারা নেবেন। ভালো। খুশি হলাম। যাক তাদের অভিভাবক পাওয়া গেল। পরে আমি এ শিশুর প্রতিবেশীদের জিজ্ঞেস করলাম, যারা তাদের দায়িত্ব নিয়েছিল- তারা কি প্রতি মাসে খবর নেয়? তারা বলে- না, খবর নেয়নি। তারা কি কিছু দিয়েছে? তারা আমাকে কাপড়চোপড় দিয়েছে। শুধু কাপড়চোপড় দিলে হবে? তাদের লেখাপড়া, খাওয়াদাওয়া দেবে কে? আজকে তাকে কোলে নেওয়ার সুযোগ হলো। এই দিপু যত দিন পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক না হবে, তত দিন পর্যন্ত তার সব দায়িত্ব আমাদের। প্রতি মাসের ১ তারিখে আমরা তার বাড়িতে পৌঁছে যাব।’ জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এ দেশে মেজরিটি মাইনরিটি মানি না। আমরা মানবতাকে টুকরো টুকরো দেখতে চাই না। সংখ্যালঘু আর নিজেদের বলবেন না। কীসের সংখ্যালঘু আর কীসের সংখ্যাগুরু। এ দেশে যে জন্ম নিয়েছে সেইই এ দেশের গর্বিত নাগরিক। আমরা নাগরিকদের ভাগবাঁটোয়ারা কোনো ধর্ম বা দলের ভিত্তিতে গড়ার পক্ষে নই। এ খাসলত ছিল অতীতে পতিত স্বৈরাচারের। তারা এ জাতিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে মুখোমুখি লাগিয়ে রেখেছিল। যে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে না- সে দেশের মানুষ মাথা সোজা করে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়াতে পারে না।’