বাংলা ভাষাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা শেখানোর কাজে নিয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের বাংলা ভাষার প্রভাষক পায়েল ব্যানার্জী। বাংলা শেখাতে গিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাঝেই বিশ্বদর্শন পান বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলা ভাষা শেখানোর নানান অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন পায়েল ব্যানার্জী।
তিনি বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলা কতটুকু শিখতে পেরেছেন তা সবচেয়ে ভালো বোঝা যায় তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে। তাঁরা তাঁদের নিজ দেশ ছেড়ে ভিন্ন একটি দেশে থেকে যতটা অধ্যবসায় আর ভালোবাসার সঙ্গে ভাষাটি শেখার চেষ্টা করেন তা আমাকে শিক্ষকের দায়িত্ব পালনেও উদ্বুদ্ধ করে। তাঁরা শেষ অব্দি বাংলা ভাষার যে দক্ষতা অর্জন করে বাড়ি ফেরেন তার কারণ শুধু শ্রেণিকক্ষের ভিতরের কর্মকাণ্ড নয়। দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁদের মেলামেশা, জীবনযাপন প্রত্যক্ষ করার অবদানই বরঞ্চ বেশি।
বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের শিক্ষার্থী হিসেবে পাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে পায়েল ব্যানার্জী বলেন, কোনো ভাষা শেখা ও শেখানো ভাষাগণ্ডিতে মাত্র আবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতি, জনপদ, দর্শন সবকিছুই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এই ইনস্টিটিউটে চীন, জাপান, নাইজেরিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রোমানিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, স্পেন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের শিক্ষার্থী হিসেবে পেয়েছি। শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় অনুভব করেছি তাঁরাও আমাকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে তুলেছে তাঁদের ভাষা ও সংস্কৃতির জ্ঞান দিয়ে। আমাদের ক্লাসগুলো তাই কখনোই একপক্ষীয় নতুন শব্দ ও বাক্য শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
শিক্ষার্থীদের মধ্য দিয়ে বিশ্বদর্শন সম্পন্ন হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রায়ই মনে হয়, আমার সামনে একটি বিশ্ব বসে আছে। শিক্ষার্থীদের মধ্য দিয়ে শ্রেণিকক্ষে বসেই আমার বিশ্বদর্শন সম্পন্ন হয় বললেও অত্যুক্তি হবে না! আমার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাঁদের ভাষা ও দেশ-সম্পর্কিত বিচিত্রমাত্রিক বিষয়াবলি মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করি। এখানে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তকেই আমি প্রাণভরে উদযাপন করি প্রকৃতপক্ষে। ‘আমি তারই হাত ধরে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে আসি’ পঙ্ক্তিটি আমার জীবনের চিরসত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে! বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার এই মহান ব্রতে সংযুক্ত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।