ছয় কমিশনের প্রতিবেদনে দেওয়া প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠাই হবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মূল কাজ। সংস্কার বাস্তবায়নে মতৈক্য প্রতিষ্ঠায় দুটো বিকল্প নিয়ে এগিয়ে যাবে এই কমিশন। সে লক্ষ্যে আগামীকাল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের কার্যক্রম শুরু হবে।
গত বুধবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে, যার সভাপতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সহসভাপতি হিসেবে আছেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। আগামীকাল থেকে পরবর্তী ছয় মাস এই কমিশনের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বেঠকের মধ্য দিয়ে সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানায়, প্রস্তাবিত ছয় কমিশনের রিপোর্টে উল্লিখিত সংস্কার সুপারিশগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জরুরি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার রয়েছে। জরুরি সংস্কারগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাথমিক মতামত নিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মূলত মধ্যমেয়াদি সংস্কারগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে। এর বাইরে দীর্ঘমেয়াদি যেসব সংস্কার প্রস্তাব থাকবে, সেগুলোর বিষয়ে দুটো বিকল্প থাকবে। এক. অন্তর্বর্তী সরকার এসব সংস্কার সম্পন্ন করে নির্বাচন দেবে; দুই. জরুরি ও মধ্যমেয়াদি কিছু সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান; পরে নির্বাচিত সরকার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য হলে নির্বাচন কিছুটা পেছাতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে আগামী জুনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ঐকমত্য কমিশনের সংস্কারের রূপরেখা সম্পর্কে এরই মধ্যে ধারণা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘ছয়টি সংস্কার কমিশন চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তারা তিনটি টাইম ফ্রেমে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। আশু করণীয়, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মৌলিক সংস্কারগুলো করার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় চলে যেতে চাই। অযথা সময়ক্ষেপণ করে ক্ষমতায় থাকার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা এই সরকারের নেই। চলতি মাসের মাঝামাঝি সংস্কার প্রতিবেদনগুলো নিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করব।’