যৌক্তিক সংস্কার শেষে চলতি বছরেই নির্বাচন চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছে দলটি। একের পর এক সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করছে তারা। গতকাল পর্যন্ত ১১৫টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াত। সম্প্রতি দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন চায় জামায়াতে ইসলামী। এ সময়ের মধ্যে যৌক্তিক সংস্কার শেষ করে সরকার নির্বাচন দেবে বলে আমাদের আশা।’
শরীয়তপুরে জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে। ডাইরেক্টলি অথবা ইনডাইরেক্টলি নির্বাচনে ৩০০ আসনেই অংশ নেবে। সরাসরি আমাদের দলের ব্যানারে হতে পারে, অন্য দলের সঙ্গে সমন্বয় করে হতে পারে। আবার সবার সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেও হতে পারে।’ দলীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে দমনপীড়নের শিকার জামায়াত প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে বঞ্চিত ছিল। সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হলেও তৃণমূল পর্যায়ে দলটির নেতৃত্ব সম্পর্কে জনসাধারণের তেমন ধারণা নেই। ভোটারদের কাছে পরিচিতি গড়ে ওঠেনি স্থানীয় নেতাদেরও। তাই আগেভাগে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ভোটারদের কাছে যেতে চায় জামায়াত। ৩০০ আসনেই সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গতকাল পর্যন্ত ১১৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলে ৮টি, নেত্রকোনার ৫, ফরিদপুরের ৪, কিশোরগঞ্জের ৫, ময়মনসিংহে ১০, মৌলভীবাজারে ৪, দিনাজপুরে ৬, শেরপুরে ৩, কিশোরগঞ্জে ৫, পঞ্চগড়ের ২, পটুয়াখালীর ৪, সুনামগঞ্জে ৫, পিরোজপুরে ৩, সিলেটের ৬, হবিগঞ্জের ৪, গাজীপুরে ৪, রাজশাহীতে ৫, সিরাজগঞ্জে ৫, ঝালকাঠিতে ২, ঝিনাইদহে ৪, কুষ্টিয়াতে ৪, খুলনায় ৬, সাতক্ষীরাতে ৪, নওগাঁতে ৫ এবং মেহেরপুরের ২টি সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল-১ অধ্যক্ষ মন্তাজ আলী, টাঙ্গাইল-২ হুমায়ূন কবীর, টাঙ্গাইল-৩ হুসনে মোবারক বাবুল, টাঙ্গাইল-৪ প্রফেসর খন্দকার আবদুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৫ আহসান হাবীব মাসুদ, টাঙ্গাইল-৬ শফিকুল ইসলাম খান, টাঙ্গাইল-৭ অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ তালুকদার এবং টাঙ্গাইল-৮ আসনে ডাক্তার আবদুল হামিদ।
ফরিদপুর-১ আসনে ঢাকা জেলা শাখার শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ মোল্লা, ফরিদপুর-২ মাওলানা সোহরাব হোসেন, ফরিদপুর-৩ অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব ও ফরিদপুর-৪ আসনে মাওলানা সরোয়ার হোসেন।
নেত্রকোনা-১ অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম, নেত্রকোনা-২ অধ্যাপক মাওলানা এনামুল হক, নেত্রকোনা-৩ দেলাওয়ার হোসেন সাইফুল, নেত্রকোনা-৪ অধ্যাপক আল হেলাল তালুকদার, নেত্রকোনা-৫ আসনে অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা।
কিশোরগঞ্জ-১ মোসাদ্দেক আলী ভূঁইয়া; কিশোরগঞ্জ-২ শফিকুল ইসলাম; কিশোরগঞ্জ-৪ মোহাম্মদ রোকন রেজা; কিশোরগঞ্জ-৫ রমজান আলী এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে কবির হোসেন।
ময়মনসিংহ-১ মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ-২ মাহবুব মন্ডল, ময়মনসিংহ-৩ মাওলানা বদরুজ্জামান, ময়মনসিংহ-৪ কামরুল আহসান, ময়মনসিংহ-৫ মতিউর রহমান আকন্দ, ময়মনসিংহ-৬ কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ-৭ আসাদুজ্জামান, ময়মনসিংহ-৮ মঞ্জুরুল হক, ময়মনসিংহ-১০ ইসমাইল হোসেন ও ময়মনসিংহ-১১ আসনে সাইফ উল্লাহ পাঠান।
দিনাজপুর-১ মো. মতিউর রহমান, দিনাজপুর-২ অধ্যক্ষ মাওলানা এ কে এম আফজালুল আনাম, দিনাজপুর-৩ অ্যাডভোকেট ময়নুল আলম, দিনাজপুর-৪ মো. আফতাব উদ্দিন মোল্লা, দিনাজপুর-৫ শিক্ষাবিদ মো. আনোয়ার হোসেন, দিনাজপুর-৬ আসনে মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
শেরপুর-১ হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি ও শেরপুর-৩ আসনে আলহাজ নুরুজ্জামান বাদল।
পঞ্চগড়-১ অধ্যাপক ইকবাল হোসেন ও পঞ্চগড়-২ মো. সফিউল্লাহ সুফি।
পটুয়াখালী-১ অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, পটুয়াখালী-২ ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পটুয়াখালী-৩ অধ্যাপক শাহ আলম ও পটুয়াখালী-৪ মাওলানা আবদুল কাওয়ুম।
সুনামগঞ্জ-১ মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খান, সুনামগঞ্জ-২ আইনজীবী শিশির মনির, সুনামগঞ্জ-৩ অ্যাডভোকেট ইয়াছিন খান, সুনামগঞ্জ-৪ মুহাম্মদ শামসউদ্দীন ও সুনামগঞ্জ-৫ অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুস সালাম আল মাদানী।
পিরোজপুর-১ ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শামীম সাঈদী ও পিরোজপুর-৩ আসনে অধ্যাপক শরীফ মোহাম্মদ আবদুল জলীল।
সিলেট-১ আসনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট-২ প্রফেসর এম এ হান্নান, সিলেট-৩ মাওলানা লোকমান আহমদ, সিলেট-৪ জয়নাল আবেদীন, সিলেট-৫ হাফেজ আনোয়ার হোসেন খান ও সিলেট-৬ আসনে সেলিম উদ্দিন।
মৌলভীবাজার-১ মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-২ মো. শাহেদ আলী, মৌলভীবাজার-৩ মো. আবদুল মান্নান ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে মো. আবদুর রব।
হবিগঞ্জ-১ আসনে মো. শাহজাহান আলী, হবিগঞ্জ-২ শেখ জিল্লুর রহমান আজমী, হবিগঞ্জ-৩ অধ্যক্ষ কাজী মহসিন আহমেদ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমান।
গাজীপুর-২ হোসেন আলী, গাজীপুর-৩ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর-৪ অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন আইউবী, গাজীপুর-৫ আসনে খায়রুল হাসান।
রাজশাহী-১ সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রাজশাহী-৩ অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ ডা. আবদুল বারী সরদার, রাজশাহী-৫ নুরুজ্জামান লিটন এবং রাজশাহী-৬ অধ্যাপক নাজমুল হক।
সিরাজগঞ্জ-১ মাওলানা শাহীনুর আলম, সিরাজগঞ্জ-২ অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৪ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ-৫ অধ্যক্ষ আলী আলম ও সিরাজগঞ্জ-৬ অধ্যাপক মিজানুর রহমান।
ঝালকাঠি-১ অধ্যাপক ডা. মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন ও ঝালকাঠি-২ শেখ নেয়ামুল করিম।
ঝিনাইদহ-১ এ এস এম মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-২ অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ অধ্যাপক মতিউর রহমান ও ঝিনাইদহ-৪ মাওলানা আবু তালেব।
কুষ্টিয়া-১ উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-২ মো. আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ ফরহাদ হুসাইন ও কুষ্টিয়া-৪ আফজাল হোসাইন।
খুলনা-১ শেখ আবু ইউসুফ, খুলনা-২ অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৩ অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা-৪ অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, খুলনা-৫ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং খুলনা-৬ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
সাতক্ষীরা-১ অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম।
নওগাঁ-১ অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক, নওগাঁ-২ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, নওগাঁ-৪ খন্দকার মুহাম্মদ আব্দুর রাকিব এবং নওগাঁ-৫ অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েম।
মেহেরপুর-১ মাওলানা তাজউদ্দিন খান ও মেহেরপুর-২ আসনে মো. নাজমুল হুদা।