বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে জোর দেন মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসন। এ সময় বাংলাদেশে ইউএসএআইডির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, বিশেষ করে স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবিতে মার্কিন সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া ও সংস্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনও চান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, আলাপকালে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বৈশ্বিকভাবে ইউএসএআইডির কার্যক্রম স্থগিত করার মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূস বলেন, ইউএসএআইডির যে পরিস্থিতিই হোক না কেন, বাংলাদেশের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পুনর্গঠন ও সংস্কারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন। এখন এটি বন্ধ করার সময় নয়। তিনি আরও বলেন, আইসিডিডিআরবি ডায়রিয়া ও কলেরায় মৃত্যুহার প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে-এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, ক্যারিবীয় অঞ্চলের হাইতিসহ বিভিন্ন দেশেও। অধ্যাপক ইউনূস ও জ্যাকবসন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডা, রোহিঙ্গা সংকট, অভিবাসন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংস্কারের বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর রাজনৈতিক দলগুলো এগুলো বাস্তবায়নের জন্য জুলাই সনদে সই করবে।
চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জ্যাকবসন এ সময় জোর দিয়ে বলেন, নতুন সরকারের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত। সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনী যে অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু করেছে, সে সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন তিনি।