গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন নিয়ে এক নাগরিক সংলাপে বক্তারা বলেছেন, সংস্কারের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারকে মনোযোগী হতে হবে। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া, এটা নিয়ে আলাপ চলতে থাকুক। তবে উন্নতি না দেখাতে পারলে অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থতার দায় নিয়ে চলে যেতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মিলনায়তনে ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ : সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গ’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত সংলাপে বক্তারা বলেন, সংস্কার করে নির্বাচন করা বাস্তবসম্মত নয়। আগের সরকার গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে আলাদা করে দেখতে চেয়েছিল। তাদের বয়ান ছিল আগে খাদ্য ও উন্নয়ন এরপর গণতন্ত্র। তাদের এ দাবি সত্য না। বাংলাদেশ গত ৫৩ বছরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করতে পারেনি। নেতা ভুল করলেও সিস্টেম যদি ঠিক হয়, তাহলে ভুল সুধরে নেওয়ার সুযোগ থাকে।
নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হওয়ার কথা, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, এটি নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ একটি প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশনের বাজেটের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে যেতে হয়। আইনকানুনের প্রস্তাবনা দিলে সেগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলোই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাহলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কোথায়? তারা তো পুরোপুরি নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান।’ তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে যেভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা ত্রুটিপূর্ণ। গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন করতে হলে নিয়োগপদ্ধতি ও আইন বদলাতে হবে। যারা অন্যায় করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কেউই দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়। এজন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে আমরা নির্বাচন কমিশনকে দায়বদ্ধ করার প্রস্তাবনা দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, দ্রুত নির্বাচনসংক্রান্ত আইনগুলো অধ্যাদেশ আকারে জারি করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এই কার্যক্রমগুলো যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যাবে তত দ্রুত নির্বাচন হবে। এ জন্য সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রয়োজন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জুলাই-আগস্টে আন্দোলন হয়েছে অর্থনীতির জন্য, চাকরির জন্য। বছরের পর বছর অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট করে দিয়েছে। এত সংস্কার করার পর নির্বাচিত সরকার যদি তা না মেনে নেয় তাহলে জনগণ আবার অসহায় হয়ে পড়বে। সরকার যদি উন্নতি না দেখাতে পারে তাহলে তাদের ব্যর্থতা নিয়ে যেতে হবে।
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের পরিচালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, সাবেক কূটনৈতিক ও এম্বাসেডর এম শফিউল্লাহ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, সাবেক জজ, কলামিস্ট ও আইনি পরামর্শদাতা ইকতেদার আহমেদ, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, ছাত্র প্রতিনিধি মুনমুন মাহজাবিন, মুহাম্মদ খালিদ খান প্রমুখ।