ভোর থেকেই জন্মদিনে শুভাকাক্সক্ষী-প্রিয়জনদের শুভেচ্ছায় সিক্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭৮তম জন্মদিনে দাঁড়িয়ে ‘গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার’ কথাও বললেন তিনি। গতকাল ৭৭ বছর পূর্ণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৯৪৮ সালের এই দিনে ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর জন্ম। জন্মদিনের অভিব্যক্তি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, বুড়ো হয়ে গেছি, এখন তো বিদায়ের প্রান্তে। তারপরও মনের ভিতরে যে স্বপ্ন, যে প্রত্যাশা তা কিন্তু চিরঞ্জীব আছে। সেটা হচ্ছে- বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। বয়সের এই প্রান্তে এসে এ বিশ্বাসটুকু আমি করি, আমাদের রাজনৈতিক যে সংকটগুলো, যে চ্যালেঞ্জগুলো তা অধিকাংশই সমাধান করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ গণতন্ত্র ফিরে যাবে সেই প্রত্যাশায় আছি। ‘শরীরটা ভালো যাচ্ছে না’ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবার আমার গোটা পরিবারই ঢাকায়। একসঙ্গে এবার এ দিনটি কাটছে। জন্মদিন নিয়ে নিজের অনুভূতি কেমন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, জন্মদিন আমি আসলে পালন করি না, ৭৭ বছর বয়স পেরোলাম বলতে পারেন একটা লং জার্নি। এই ৭৭ বছরে বহু পরিবর্তন দেখেছি, বহু ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি, বহু জীবন দেখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি। বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, এখন যাওয়ার পালা, তবে আশা এখন একটাই, প্রত্যাশা একটাই, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের দিকে যাবে, গণতন্ত্র ফিরে পাবে। এ গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ, বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মী যে আত্মত্যাগ করেছেন, ফ্যাসিস্টদের যে নিপীড়ন, নির্যাতন ভোগ করেছেন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, নির্মমতার মুখে পড়েছেন- এ রকম চিত্র আপনি কোথাও খুঁজে পাবেন না, এটা নজিরবিহীন। সকালে ঘুম ভাঙে দুই মেয়ের ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ শুনে। আমার নাতি-নাতনিরাও উইশ করেছে নানাকে। এটা একটা অন্যরকম আনন্দ। ২৬ জানুয়ারি জন্মদিনের প্রথম প্রহর থেকেই বন্ধু, স্বজন, নেতাদের অনেকে টেলিফোন করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সকাল বেলা স্ত্রী রাহাত আরা বেগমও এক কাপ চা দিয়ে জন্মদিনের উইশ করেছেন। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, সিনিয়র নেতারাও টেলিফোন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং এস এম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন ফখরুল। ঢাকা কলেজ ও দিনাজপুর কলেজে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়লাভ করে চেয়ারম্যান হন। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুলের জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাপে। ভাসানীর হাত ধরে রাজনীতির আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করেছেন তিনি। সেখান থেকেই বিএনপিতে যোগদান করেন, যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব ছিলেন ফখরুল। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে একে একে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে উঠে আসেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন।