জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এমন কোনো কর্মকান্ড করবেন না, যাতে আমাদের জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়। চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হলে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে ফ্যাসিস্টরা। তাই জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হবে। গতকাল বেলা ১১টায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন ফারুকী। বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ব্যারিস্টার সালেহীন, অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, জেলা নায়েবে আমির আজিজুর রহমান সরকার স্বপন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হামিদ প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সংঘটিত সব হত্যার বিচার চাই। মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই যুদ্ধ চলবে। আওয়ামী লীগ উন্নয়নের নামে আমাদের সব সম্পদ চুরি করে বিদেশে নিয়ে গেছে। ওরা ২৬ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে চুরি করে নিয়ে গেছে। এটা তাদের দেশ হলে তারা টাকা বিদেশে পাচার করত না। তিনি বলেন, কথায় কথায় তারা আমাদের বিদেশ যেতে বলে নিজেরাই বিদেশে চলে গেছে। বিগত ১৫ বছর যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, যাদের ওপর বিভিন্নভাবে জুলুম অত্যাচার করা হয়েছে, তাদের কাছে হাতজোড় করে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করি যাতে এমন হঠকারী কাজকর্ম না করি, যাতে আমাদের জাতীয় ঐক্য নষ্ট হয়। চুরি, চামারি, ঘুষ ও মামলা বাণিজ্য না করি, যাতে ফ্যাসিবাদীরা আশ্রয়-প্রশ্রয় না পায়। কারণ সেই ফ্যাসিস্টদের আশ্রয় আর বাংলার মাটিতে হবে না। তিনি আরও বলেন, এই কুড়িগ্রাম বহুদিক থেকে বঞ্চিত। এখানে একটা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে কিন্তু তার নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই, ধুঁকে ধুঁকে চলছে। অথচ এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখানকার চেহারা বদলে দিতে পারে। এটি সীমান্তবর্তী জেলা। এখানকার মানুষের সুচিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থা নেই। একটি জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু এখানে এসব তৈরি করা হয়নি কেন, এটা কোন ধরনের ইনসাফ? বর্ষা এলে এখানকার নদী পাড়ের মানুষজন পানিতে তলিয়ে যাওয়ার চিন্তায় ঘুমাতে পারে না। তাদের জন্য কী পরিকল্পনা রয়েছে। একটি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কাদের ইঙ্গিতে তা বন্ধ হয়ে আছে। এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশের খেদমতের দায়িত্ব দিলে জনগণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।
২০ বছর পর দিনাজপুরে জামায়াতের কর্মী সম্মেলন
দিনাজপুর প্রতিনিধি : দীর্ঘ ২০ বছর পর আজ ২৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড়ময়দানে দিনাজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ কর্মী সমাবেশে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। কর্মী সম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। মহিলা কর্মীদের বসার আলাদা ব্যবস্থা ছাড়াও চিকিৎসা, পানি-স্যানিটেশন, খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় বিভাগ করে কর্মীদের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতকাল বিকালে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা জামায়াত নেতারা সম্মেলনের নিরাপত্তাসহ মঞ্চ ও মাঠ সজ্জার সর্বশেষ প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন। দীর্ঘদিন পর জামায়াতের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মাঝে চাঙাভাব বিরাজ করছে। এর আগে ২০০৪ সালে দিনাজপুর জেলা জামাতের কর্মী সম্মেলন হয়েছিল।