জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আজ একটি সর্বদলীয় বৈঠক করা হবে। আজ স্পষ্ট হবে, কবে ঘোষণাপত্রটি দেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়নি। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, ১২ দলীয় জোটসহ অনেক দল বৈঠকের দাওয়াত পায়নি বলে জানা যায়। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার জুলাই গণ অভ্যুত্থান ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে বলেন, সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের কাছ থেকে ঘোষণাপত্রের খসড়া পেয়েছি এবং উনি অনুরোধ করেছেন, এ বিষয়ে আমাদের মতামত জানানোর জন্য। তিনি বলেন, বিষয়টা এত বেশি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ যে এটা এক দিনের নোটিশে করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, জুলাই ঘোষণাপত্র বিষয়ে মতামত দিতে সময় নিতে চায় বিএনপি। তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করছি। আমাদের অন্যান্য দল আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। শুধু তাই নয়, সংবিধান বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাদের সঙ্গেও কথা বলতে হবে। কারণ এই ঘোষণাপত্রের মধ্যে সংবিধানের ব্যাপারেও বহু কথা আছে, যেটি আমাদের দেখতে হয়। বিএনপির মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা একাধিক সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেন, গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত কোথায় এ বৈঠক হবে, কখন হবে এমনকি বৈঠকের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক দাওয়াতও করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে খসড়া পেয়েছি। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা আমাদের মতামত তুলে ধরব।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, ফ্যাসিস্ট সরকার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছি। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম স্টেক হোল্ডার গণঅধিকার পরিষদ। এ আন্দোলনে আমাদের ১১ জন শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। এ আন্দোলনে ঘোষণাপত্র করতে হলে সবার অধিকারের কথা তুলে ধরতে হবে। সব দল মিলে দলিল তৈরি করবে, সরকার সমন্বয় করতে হবে। রাশেদ খান আরও জানান, তাদের বৈঠকের বিষয়ে দাওয়াত করা হয়নি। তিনি বলেন, শুধু গণঅধিকার পরিষদ নয়, কোনো দলকেই দাওয়াত করা হয়নি। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জানান, তারাও দাওয়াত পাননি।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে চেয়েছিল। এ ঘোষণাপত্র নিয়ে তখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়। হঠাৎ ঘোষণাপত্রের বিষয়টি কেন সামনে আনা হলো, এর প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং তখন এ উদ্যোগের সঙ্গে সরকার সম্পৃক্ত নয় বলে উল্লেখ করেছিল। ৩০ ডিসেম্বর রাতে জরুরি ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের একটি ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই রাতে বৈঠক করে ৩১ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ (ঐক্যের জন্য যাত্রা) কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। ওই কর্মসূচি থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের জন্য অন্তর্বতী সরকারকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়।