জুলাই গণ অভ্যুত্থানের প্রায় ছয় মাস গড়িয়েছে। এখনো অনেকে খুঁজছেন হারানো স্বজনদের। অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে হারিয়েছেন। অনেকে হারিয়েছেন বাবা-মাকেও। এখনো পরিচয়হীন সাতটি লাশ পড়ে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে। গতকাল পৃথক দুটি পরিবার এসব লাশ দেখে লাশ দুটি তাদের পরিবারের সদস্যের বলে দাবি করেছে। মর্গ কর্তৃপক্ষ বলছে, অজ্ঞাতনামা হিসেবে এখনো ঢামেক মর্গের মর্চুয়ারিতে রাখা আছে এক নারীসহ সাতটি লাশ। দাবিদারদের সঙ্গে ডিএনএ রিপোর্ট মিললেই লাশ হস্তান্তর করা হবে।
শাহিনুর বেগম নামে এক নারী ঢামেক মর্গে এসেছেন নিখোঁজ ভাগিনা মো. হাসানের খোঁজে। গত ৫ আগস্ট বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসা থেকে বের হয়েছিলেন আনন্দ মিছিলে। হিমঘরে বেওয়ারিশ হিসেবে পড়ে থাকা সাতটি লাশের মধ্যে এক যুবককে প্রাথমিকভাবে হাসানের লাশ বলে শনাক্ত করেন তিনি। এমনই স্বজনহারা অনেক পরিবারই রোজ ভিড় করেন ঢামেক মর্গে। রাজধানীর মুগদা থেকে নিখোঁজ পঞ্চাশোর্ধ কাবিল হোসেনকে খুঁজতে এসেছে এক পরিবার। একটি লাশের জামা-কাপড় দেখে তাদেরও ধারণা, এটিই তার লাশ। নিখোঁজ কাবিলের স্ত্রী সেলিনা বেগম ও নিখোঁজ মো. হাসানের চাচা নূরে আলম সাংবাদিকদের জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যে ছয়টি লাশের তথ্য সামনে এনেছে, তা গণমাধ্যম ও ফেসবুকে দেখেছেন। মর্গে থাকা লাশগুলোর মধ্যে তাদের স্বজন থাকতে পারে, সেই ধারণা থেকে মর্গে এসেছেন। নিখোঁজ কাবিল হোসেন পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কায়েকখালী গ্রামে। থাকতেন ঢাকার মুগদায়। দুই সন্তানের বাবা কাবিল গত ৫ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে খুঁজেও তার সন্ধান পায়নি পরিবার। ঢামেক মর্গে তার স্ত্রী সেলিনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, তার স্বামীর বয়স ৬০ বছর। মুখে দাড়ি ছিল, পরনে ছিল লুঙ্গি।
তবে মর্গে থাকা সাতটি লাশের যে বয়স বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে তার স্বামীর বয়সের বড় পার্থক্য আছে।
ঢামেক মর্গ কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার কারণে লাশ ও তাদের পরনের পোশাক দেখে শনাক্ত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। লাশগুলোর ডিএনএ ও পরিহিত আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, ঢামেক মর্গে থাকা সাতটি বেওয়ারিশ লাশের মধ্যে ছয়টি শাহবাগ থানার অধীনে রয়েছে। অন্যটি যাত্রাবাড়ী থানার অধীনে। কেউ লাশ দেখে শনাক্ত করার পর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।