শ্রম খাতের জন্য জাতীয় একটি অভিন্ন মজুরি কাঠামো প্রণয়নের সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি। গতকাল রাজধানীর সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত শ্রমিকের জীবনমান, কর্মপরিবেশ ও অধিকার সংক্রান্ত সংস্কার উদ্যোগ : অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য প্রস্তাবনা বিষয়ক সভায় এ প্রস্তাব করে সংস্থাটি।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদ। এ সময় শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, কমিশনের সদস্য এমসিসিআইর সভাপতি কামরান টি রহমান, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ফারুক আহমেদ, বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার লিমা, বাংলাদেশে ক্রিশ্চিয়ান এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর নুজহাত জাবিন বক্তব্য রাখেন। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সভা পরিচালনা করেন। সভায় উপস্থাপিত অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশে অভিন্ন একটি শ্রম আইন প্রণয়ন। বর্তমান শ্রম আইনে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) অন্তর্ভুক্ত নয়। ইপিজেড আইন নামে সেখানে ভিন্ন আইন রয়েছে। যেখানে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া শ্রম আইনে ট্রেড ইউনিয়ন চর্চা অবারিত করতে শ্রমিক সংগঠনের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সই স্বাক্ষর থাকার শর্ত প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়। শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে ৮৫ ভাগ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক। এদের কোনো আইনি সুরক্ষা নেই। আর বেশির ভাগ মালিক এখন সফটওয়্যার কেন্দ্রিক, যাদেরকে ধরা যায় না। তিনি বলেন, শ্রম খাতের সবাইকে নিয়ে সমন্বিত সুপারিশ দেওয়ার চেষ্টা করছি, যেখানে শ্রম অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মজুরির মানদন্ড, সামাজিক সুরক্ষা ও সাংগঠনিক অধিকার প্রত্যেকের থাকা জরুরি। এতে গতিশীল অর্থনীতিতে ন্যায্য হিস্যা প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর এগুলো নিশ্চিত করব, নাকি এগুলো নিশ্চিত করে উন্নয়নশীল হব, তা এখনই ঠিক করতে হবে। জনমানুষের আকাক্সক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের যে আকাক্সক্ষা তা পূর্ণ হবে না। নারী শ্রমিক কমার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অটোমেশন ও শ্রম খাতে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশের অভাব নারী শ্রমিক কমার বড় কারণ। এক্ষেত্রে সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।