বাংলাদেশি বংশোভূত ব্রিটিশ এমপি রূপা হক বলেছেন, বিভিন্ন দেশের মিডিয়ায় বলতে শুনেছি, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবস্থা ভঙ্গুর, এখানে কোনো পুলিশ নেই, হিন্দুসহ সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে আমি তাদের নিশ্চিত করতে চাই, বাংলাদেশে সবাই একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। দেশের মানুষ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অনেক সম্মান এবং ভরসা করেন। গতকাল বিকালে রাজধানীর অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রূপা হক বলেন, ড. ইউনূস আমাকে বলেছেন, এক বছরের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে আমরা আশা করি। আমরা একটি সত্যিকারের নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চাই। তবে এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এসব বাদ দিয়ে নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়া করলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হতে পারে। অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আমল লিটন, সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান লিটু প্রমুখ।
রূপা হক বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা প্রয়োজন। কারণ, এগুলো দেশের জনগণের টাকা। যুক্তরাজ্যে যদি টাকা পাচার হয়ে থাকে তাহলে সে দেশের আইন অনুযায়ী টাকা ফেরত আনার চেষ্টা করতে হবে। পাচার টাকা ফেরত আনতে সে দেশে অনেক আইন আছে। আমি মনে করি, সেই আইন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি ঢাকা শহরের গ্রাফিতিগুলো দেখেছি। প্রধান উপদেষ্টাও আমাকে গ্রাফিতিসংবলিত একটি বই দিয়েছেন। সেই বই থেকে জুলাই অভ্যুত্থান সম্পর্কে জেনেছি, এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কোনো রাষ্ট্র এ ধরনের কাজ করতে পারে না।
ব্রিটিশ এই এমপি বলেন, বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এই দুই দলের মধ্যেই কেবল ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। দুই দলই ক্ষমতায় গিয়ে দুর্নীতি করেছে। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে বাংলাদেশে যে পরিবর্তন এসেছে তা ধরে রাখতে হবে। সব পর্যায়ে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। আমরা একটি নতুন সিস্টেম চাই। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় হুমকি। ফলে আমাদের টেকসই ভবিষ্যতের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।