প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, জাতি অনেক আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দিকে তাকিয়ে আছে। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ঠিক সেই আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে আমিও তাকিয়ে আছি। ন্যায়বিচারটা দেখতে চাই।
গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংস্কারকৃত মূল ভবন ও এজলাস কক্ষ উদ্বোধনের পর এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। ভবনটি ১২০ বছরের পুরনো। সংস্কারের পর পুরাতন এ হাই কোর্ট ভবনে ফিরছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউটর ও ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তারা। উদ্বোধনের পর প্রধান বিচারপতি ট্রাইব্যুনালের প্রশাসনিক দপ্তর ও চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংস্কারকৃত মূল ভবন ও এজলাস কক্ষ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নতুন যুগের সূচনা হলো। এই ভূখন্ডে বিচার বিভাগীয় ইতিহাসে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি ‘ঢাকা হাই কোর্ট’ বা ‘পুরাতন হাই কোর্ট ভবন’ হিসেবে যে মহান ঐতিহ্য ধারণ করে আছে, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়ন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের শাশ্বত নীতিসমূহের অনুসরণের মাধ্যমে তা নতুন মাত্রায় পূর্ণতা পাবে। তিনি আরও বলেন, সমগ্র জাতির নৈতিক সমর্থনপুষ্ট একটি গণজোয়ার রুখতে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে একজন সাধারণ নাগরিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি যে প্রত্যাশা রাখেন, প্রধান বিচারপতিও ঠিক অনুরূপ প্রত্যাশা রাখেন।
জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের সময়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে, তার বিচার এই ট্রাইব্যুনালেই হবে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচারে বিগত শেখ হাসিনা সরকার এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল। এখন শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর দলের সংসদ সদস্যরাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি।
জানা যায়, ব্রিটিশ উপনিবেসিক আমলে ১৯০৫ সালে ‘গভর্নর হাউজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু হয় এই ভবনের। ১৯৪৭ সালের পর ‘ঢাকা হাই কোর্ট’-এর বিচারকাজ চলে এই ভবনে। পরে এই ভবনটি ‘পুরাতন হাই কোর্ট ভবন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে এই ভবনে স্থাপন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলার মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ১২০ বছরের পুরনো এই ভবন থেকে ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। পুরনো এই ভবনের আঙিনায় টিনশেডের স্থাপনা তৈরি করে সেখানে স্থানান্তর করা হয় ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন। এর পর থেকে নতুন স্থাপনাতেই চলছিল ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ।