আগামী দিনের নির্বাচনগুলো ত্রুটিমুক্ত করতে বিগত নির্বাচনের অনিয়ম, ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতার বিষয়ে তথ্য দিতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১৮ ডিসেম্বর কমিশনের মাঠ কর্মকর্তাদের এক ভার্চুয়াল সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের যেসব কার্যালয়ে গাড়ি নেই, সেসব কার্যালয়ে গাড়ি সরবরাহের নির্দেশনাও দিয়েছে ইসি।
ইসির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে লিখিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে- বিগত নির্বাচনে অনিয়ম ও ত্রুটিগুলো শনাক্ত করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণ করতে হবে। তবে এই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের দায়িত্ব তথা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচনি সহায়তা ও সমন্বয়) শাখাকে। ইসির সব কার্যালয়ে একটি অভিযোগ বাক্স স্থাপানের নির্দেশনাও দিয়েছে ইসি। অভিযোগ বাক্সে প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে ব্যাপক বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো অংশ না নেওয়ায় একতরফা ভোট হয়, যে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৩ জন নির্বাচিত হন। নির্বাচনি ইতিহাসে যা বিরল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সব দল অংশ নিলেও রাতের ভোট বলে অভিহিত করা হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও শরিকরা সাতটি আসন পায়, যা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের সন্দেহকে দৃঢ় করে তোলে। এ ছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোকে বাইরে রেখে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখানো হয়। এতে টানা চারবারের মতো ক্ষমতায় আসে দলটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পর এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন কমিশন গঠন হলে বিভিন্ন মহল থেকে ওই তিন নির্বাচনে অনিয়মের কারণ খুঁজে বের করার দাবি ওঠে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বসেও সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তা খুঁজে বের করার দাবি তোলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারই ধারাবাহিকতায় কর্মকর্তাদের ওই নির্দেশনা দিয়েছেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সাবেক সচিব কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে। একাদশ সংসদ নির্বাচন করেছে কে এম নুরুল হুদার কমিশন। আর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক মাস পর গত ৫ সেপ্টেম্বর নিজে থেকে পদত্যাগ করে আউয়াল কমিশন। পরে নতুন দায়িত্বে আসেন এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন কমিশন।