মাদারীপুরের কালকিনিতে মোসা. শিখা ওরফে সিমা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। তবে ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। এদিকে নিহত গৃহবধূর স্বামীর পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, গৃহবধূর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের উত্তর আন্ডারচর গ্রামের জাহাঙ্গীর বেপারীর মেয়ে শিখা ওরফে সিমা বেগমের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ক্ষুদ্রচর গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে রায়হানের প্রায় ৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সম্প্রতি বেশ কয়েকবার সালিশের মাধ্যমে তাদের সমস্যা মীমাংসা করেন। কিন্তু হঠাৎ করে শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা গৃহবধূর লাশ তার স্বামীর ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। তবে নিহতের পরিবার এ ঘটনাকে হত্যা বলে দাবি করছে।
এ ঘটনার পর থেকে নিহত গৃহবধূর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। নিহত শিখার বাবা জাহাঙ্গীর বেপারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়েকে তার স্বামী রায়হান হত্যা করেছে। আমরা তার নামে মামলা করবো।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহিম মুরাদ সরদার বলেন, ‘রায়হান ও তার স্ত্রীকে নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ওসি কে এম সোহেল রানা বলেন, ‘নিহত গৃহবধূ শিখা ওরফে সিমা বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার পর জানা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। তবে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।’
বিডি প্রতিদিন/আশিক