নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে নৌকার মাঝি ও মাছ শিকারিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
সোমবার দুপুরে জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার ধনু নদের আলাদা স্থানে মরদেহগুলো ভেসে উঠলে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন, আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের রূপচন্দ্রপুর গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে শহীদ মিয়া (৫৫), কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের রোয়াইলবাড়ী গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে হৃদয় মিয়া (৩০) ও মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাগজান গ্রামের রোকন মিয়া (৫০)।
এর আগে, গত শনিবার হাওরের বিভিন্ন জলমহালে শতশত মাছ শিকারি মাছ ধরতে যান। সেদিন নদী পারাপারের সময় মাঝিদের সঙ্গে মাছ শিকারিদের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনজন।
জানা গেছে, খালিয়াজুরীর হাওরাঞ্চলে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কয়েকজনকে সম্পৃক্ত করে জলমহাল ইজারা নিয়ে কোটি কোটি টাকার মাছের ব্যবসা করেন বিভিন্ন প্রভাবশালী। এতে করে জেলেসহ সাধারণ মানুষ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে পারেন না। সেই কারণে কেবল বছরে একদিন উৎসব করে পোলো দিয়ে (মাছ ধরার খাঁচা) মাছ ধরার সুযোগ পান তারা।
গত শনিবার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকশ মাছ শিকারি খালিয়াজুরী যাওয়ার পথে ধনু নদী পার হতে যাচ্ছিলেন। এ সময় নৌকার মাঝিরা পারাপার করতে না চাওয়ায় মাছ শিকারিদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। একপর্যায়ে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাছ শিকারিদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান জলমহালের লোকজন। এতে উভয়পক্ষের প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ ছিলেন।
ওইদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ৫১ জনকে আটক করে খালিয়াজুরী থানা পুলিশ। পরের দিন রবিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের জিম্মায় আটকদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর আজ সোমবার পুনরায় মদন থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন ও যৌথবাহিনী।
জানা গেছে, মদন উপজেলার ত্রিয়শী ইউনিয়নের বাগজান গ্রামের রোকনের মরদেহটি রসুলপুর ঘাট থেকে উদ্ধার করেন খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া ফাঁড়ির নৌ পুলিশের আইসি জাহাঙ্গীর হোসেন খান।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাঈম মোহাম্মদ নাহিদ হাসান বলেন, মদনের একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও দুই উপজেলার দুজনের খবর পেয়েছি। কয়জন নিখোঁজ ছিল এটা বলা যাচ্ছে না।
এদিকে, নাওটানা ঘাট থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের টিম লিডার নুরুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, নৌকার মাঝি ও মাছ শিকারিদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাদের মরদেহ ধনু নদীর বিভিন্ন ঘাটে ভেসে উঠলে উদ্ধার করা হয়। এদিকে, আজ মাইকে ঘোষণা দিয়ে সকালে সংঘর্ষের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। সেটি আমরা নিভৃত করতে সক্ষম হই।
বিডি প্রতিদিন/কেএ