দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে কর্তৃপক্ষের গাফিলাতি ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে দূষণ হচ্ছে পরিবেশ, ছাড়াচ্ছে রোগ জীবাণু।হাসপাতালে আসা রোগীরা রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাস্টবিন থাকলেও তার পাশেই খোলা স্থানে ফেলা হচ্ছে চিকিৎসা বর্জ্য, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। বর্জ্যগুলো কুকুর ও মুরগি ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিচ্ছে। সেখানে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মশা মাছি পড়ে ভনভন করছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানায়, মাদকসেবীরা অনেকেই সেখান থেকে ইঞ্জেকশনের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে ব্যবহার করছে মাদক সেবনের কাজে। যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতাল থেকে সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এসব বর্জ্য যত্রতত্র ফেলায় হেপাটাইটিস বি, সি কিংবা এইডসসহ মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত।
জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলায় একটি সরকারি হাসপাতাল, ৪টি বেসরকারি ক্লিনিক এবং ১৩টি প্যাথলজী রয়েছে। এরমধ্যে কোনোটির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এছাড়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের নবায়নকৃত লাইসেন্স নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নেই।
হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন আব্দুল মালেক জানান, হাসপাতালের ভেতর খোলা জায়গায় এভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, সেইসাথে নানা রকম রোগ জীবাণু ছড়াতে পারে। অথচ কর্তৃপক্ষের নজর নেই।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ালে ধোয়ায় রোগীদের সমস্যা হতে পারে। বর্জ্যগুলো ইনসিনারেশন ব্যবস্থা না থাকায় ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্বাস্থ্য কপ্লেক্সের পাশে রাখা হয়। সপ্তাহে দুদিন পৌরসভার গাড়ি এসে সেগুলো নিয়ে যায়। আমাদের জনবল সংকট। ২ লক্ষ মানুষের জন্য একটি মাত্র সরকারি হাসপাতাল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলার কোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পায়নি। বারবার আবেদন করেও তারা ছাড়পত্র দিচ্ছেন না।
ফুলবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, যত্রতত্র চিকিৎসা বর্জ্য ফেলা যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এসব বর্জ্য সংরক্ষণ অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পোড়ানোর পর অবশিষ্ট অংশটুকু পৌরসভা সংগ্রহ করে ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানে ফেলবেন।
দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ ফেসদৌস জানান, চিকিৎসা বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলার কথা না। মূলত ইনসিনারেশনের মাধ্যমে করা উচিৎ। যেহেতু আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ইনসিনিয়ারেশনের ব্যবস্থাপনা নেই, সেহেতু লোকালি পুড়িয়ে ফেলার ব্যবস্থা থাকে। যদি ফুলবাড়ীতে এমন ব্যবস্থা না থাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
দিনাজপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক প্রভাতি রানী বলেন, হাসপাতালের পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়টি রংপুর বিভাগীয় অধিদপ্তরে প্রক্রিয়াধীন।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল