১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা মেহেরপুরে বাস টার্মিনাল একযুগ ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। পরিবহণ মালিক-শ্রমিকের বাধায় আজও এটি চালু হয়নি, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরের প্রাণ কেন্দ্র হোটেল বাজার এলাকায় প্রধান সড়ক দখল করে টিকিট কাউন্টার খুলে চালানো হচ্ছে পরিবহন ব্যবসা। ফলে শহরের সড়কে যানজটের পাশাপাশি প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এদিকে টার্মিনাল ভবনে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন জায়গায় ফাটল। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ থেকে পানি পড়ে। প্রাচীরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উদ্বোধনের আগেই বিনষ্টের পথে। বাস টার্মিনাল চালু করতে সংস্কার করতে হবে, জানান সংশ্লিষ্টরা।
মেহেরপুর পৌরসভা থেকে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৫ জুন মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে শহরের উপকণ্ঠে ৮ দশমিক ৪০ একর জমির ওপর ইউজিআই প্রকল্পের আওতায় বাস টার্মিনাল নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট, টার্মিনাল ভবন নির্মাণ, সম্মুখ ভাগে সীমানাপ্রাচীর, পুলিশবক্স ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করা হয়। ২০১২ সালের দিকে বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হয়। সে সময় থেকে বেশ কয়েকবার আলোচনা হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকের বাধার কারণে চালু হয়নি টার্মিনাল। সাবেক মেয়র মাহফুজুর রহমান বছরতিনেক আগে বাস টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নিলেও অদৃশ্য কারণে সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি। শহরের প্রাণকেন্দ্রে রাস্তার ওপর গাড়ি রাখার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট নিরসনে টার্মিনাল চালু করতে বারবার পৌরসভাকে তাগিদ দিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।
ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই-১) ইসমাইল হোসেন বলেন, মেহেরপুর শহরের যানজট দূর করতে বাস টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গ চালুর কোনো বিকল্প নেই। মেহেরপুর শহরের রাস্তাগুলো কিছু কিছু জায়গায় খুবই সরু। লোকাল ও দূরপাল্লার বাসগুলো শহরের প্রাণকেন্দ্র এসে রাস্তায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বাস টার্মিনাল চালু হলে বাস ও ইজিবাইকগুলো শহরের বাইরে চলে যাবে। ফলে যানজট একেবারেই থাকবে না।
মেহেরপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল বলেন, বর্তমানে টার্মিনালটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। চারদিকে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বাস-ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সংস্কার না করলে এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।