‘পিলখানা হত্যাকান্ডে যারা জড়িত তারা সবাই অপরাধী। অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত বিপথগামী জওয়ানদের নিরপরাধ বলার কোনো সুযোগ নেই এবং তাদের মুক্তির দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এই অপরাধীদের সরকার মুক্ত করে দিয়েছে ও আরও দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ঢালাওভাবে এই বিডিআরদের মুক্তিতে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে আমরা শহীদ পরিবার শঙ্কিত।
গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া প্লাজায় পিলখানা হত্যাকান্ডে শহীদ পরিবার ও বেঁচে ফেরা সেনা অফিসাররা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শহীদ কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী নেহরিম ফেরদৌসি, শহীদ কর্নেল কুদরত ইলাহীর সন্তান অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান, শহীদ লে. কর্নেল লুৎফর রহমান খানের মেয়ে ডা. ফাবলিহা বুশরা, শহীদ মেজর মো. আবদুস সালাম খানের বড় ছেলে সাকিব মাহমুদ খান ও লে. কর্নেল রিয়াজ প্রমুখ। শহীদতনয় অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান বলেন, ঢালাওভাবে বিডিআর জওয়ানদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ওই হত্যাকান্ডের সময় কোনো বিডিআর সদস্য প্রতিবাদ করেনি। তারা অস্ত্র হাতে মাঠে ছিল। এমন না যে তারা অস্ত্র হাতে নীরবতা পালন করেছিল। সুতরাং কোনো বিডিআর জওয়ান নিরপরাধ নয়। শহীদকন্যা ডা. ফাবলিহা বুশরা বলেন, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে প্রশ্ন করা মানে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর অফিসারদের তথা সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। অতএব, অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত বিপথগামী জওয়ানদের নিরপরাধ বলার কোনো সুযোগ নেই এবং তাদের মুক্তির দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাই আমাদের একান্ত দাবি, সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের প্রাপ্য সাজা অবিলম্বে কার্যকরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে বাহিনীটিকে কলঙ্কমুক্ত করা হোক। সঠিক বিচার না হলে ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
পিলখানা হত্যাকাে র পেছনে দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র জড়িত ছিল উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, জাতি বিশ্বাস করে বর্তমান সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসবে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা ছিল। এই ম্যাসাকারের পেছনের পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা ও সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানান তারা। বলেন, প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থানরত দোষী ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার সম্পন্ন করতে হবে।