বরিশালে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে চুরির অভিযোগে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে মামলা দিয়ে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার মা। বুধবার বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
ঘটনার শিকার মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হলো আব্দুর রহিম (১৫)। সে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হরিনাফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর মল্লিকের ছেলে। রহিম হরিনাফুলিয়া এলাকার ডা. লতিফা আরিফ ইসলামিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের হেফজ বিভাগের ছাত্র।
ছাত্রকে নির্যাতন ও চুরির মামলা দেওয়া হাসিব হোসেন বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সে মাদ্রাসা ছাত্রের প্রতিবেশী।
লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তার মা লামিয়া বেগম বলেন, চুরির অভিযোগ এনে নগরীর শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেনে ফুফুর বাসায় বেড়াতে যাওয়া রহিমকে ধরে নিয়ে যায় হাসিব ও তার ভগ্নিপতি দ্বীন ইসলাম। পরে হাসিবের বাসায় নিয়ে চুরির অভিযোগ এনে রহিমকে নির্যাতন করে। প্লাস দিয়ে মাদ্রাসা ছাত্র রহিমের হাতের আঙুলের নখ তুলে ফেলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে তিনি (লামিয়া) সেখানে গেলে তাকেও নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে নিজ ঘরে অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর করেছে। তখন ৯৯৯-এ কল করে পুলিশি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন লামিয়া বেগম।
তিনি আরও জানান, ছেলেকে নির্যাতন শেষে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। পরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার আসামি হিসেবে রহিমকে যশোর শিশু সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয় শিশু আদালতের বিচারক।
গত ২৭ জানুয়ারি ছেলে জামিনে মুক্তি পেয়েছে জানিয়ে লামিয়া বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
নির্যাতনের বিষয় অস্বীকার করে কর্মচারী হাসিব বলেন, তার বাসা থেকে স্বর্ণালংকারসহ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। চুরির সময় রহিমকে বাসার কাছে দেখা গেছে। রহিম চুরি করার বিষয়টিও স্বীকার করেছে।
তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই ফেরদৌস হোসেন বলেন, রহিমকে চুরির মামলায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়। তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মালামাল কিংবা কোনো আলামত উদ্ধার করা হয়নি।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, মামলা নেওয়ার আগে তদন্তের প্রয়োজন নেই। সে অপরাধী কি না, তদন্তে বেরিয়ে আসবে। ৯৯৯-এ সহায়তা চেয়ে না পাওয়ার বিষয় সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি ওসি।
বিডি প্রতিদিন/এমআই