নিয়মিত সানস্ক্রিন মাখা, ঘুমানোর আগে ভালোভাবে মুখত্বক পরিষ্কার, ব্রণ নিয়ে অযথা খোঁটাখুঁটি না করা- এমন সব উপদেশ মোটামুটি সব ঋতুতে কার্যকরী। তবে শীতের আবহ থেকে বসন্তে প্রবেশপথে খানিকটা পরিবর্তন অবশ্যই আনতে হবে...
বসন্ত ব্যাপারটাই যেন কেমন! আবহাওয়া একেবারে অন্যরকম- দিনে গরম ঠান্ডা তো রাতে বেজায় ঠান্ডা। আবহাওয়ার এই লুকোচুরি কিন্তু ঠিকই টের পাচ্ছে আমাদের ত্বক। কারণ, বসন্তের এই মাতাল সমীরণ মনে যতই রোমান্টিকতা জাগিয়ে তুলুক, ত্বকে বিরূপ প্রভাবই ফেলে। ঠান্ডা-গরমের এ সময় ত্বকের বিশেষ পরিচর্যা প্রয়োজন। নইলে ত্বক সুস্থতা হারায়, আর সঙ্গে নষ্ট হয় তার সৌন্দর্য।
বসন্তের এই শীত এই গরম আবহাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে ত্বক এবং চুলে। কেননা গরম ও শীতে দুই ধরনের যত্নের প্রয়োজন পড়ে। যখন এমন আবহাওয়া মিশ্র, তখন তো একটু চিন্তায় পড়তেই হয়। তবে অভয় দেখিয়ে শোভন মেকওভারের কসমোলজিস্ট শোভন সাহা বলেন, ‘এ সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। প্রকৃতিতে থাকে অতিরিক্ত ধুলোময়লা। এ সময়ে মানুষের ত্বক, চুলও রুক্ষ হয়ে যায়। তাই এই রুক্ষতা থেকে বাঁচতে ত্বক ও চুলের চাই বিশেষ যত্ন। মনে রাখতে হবে, ফাগুনে ত্বক ও চুল ভালো রাখার প্রথম শর্ত পরিষ্কার রাখা। এরপর কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহারে ত্বক ও চুলে ফিরবে সজীবতা ও প্রাণ’।
গেল দুই মাসেরও বেশি সময়- অর্থাৎ শীত মৌসুমে ত্বকের জন্য যেসব উপকরণ ছিল ভালো কিন্তু তাপমাত্রার পারদ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় সে পণ্য হয়ে উঠবে যন্ত্রণার কারণ। এখন তো ক্ষণে ক্ষণে বদলাচ্ছে আবহাওয়ার মতিগতি। খুব ভালো হয় যদি কোনো রূপ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে রূপচর্চা করা যায়- এমনটাই মনে করেন পারসোনার পরিচালক নুজহাত খান। তিনি বলেন, যদি প্রসাধনীর মেয়াদ থেকেও থাকে, তবু অনেক দিনের ব্যবহৃত প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ, এই সময় বাতাসে প্রচুর ধুলা ওড়ে, যাতে থাকে নানা ধরনের রোগজীবাণু। তাই ব্যবহৃত প্রসাধনীতে ধুলা পড়ে ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিরুনি আর তোয়ালেটাও পরিষ্কার করতে হবে নিয়মিত।
যেমন হবে ফাগুনের রূপকাহন...
* ফাগুনের মিঠে রোদের মায়ায় পড়লে সহসা আপনার ত্বকের বারোটা বাজবে। কেননা, এই রোদেও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর উপাদান লুকিয়ে থাকে। তাই বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই এসপিএফ ৫০ সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। পানিভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবে। বাজারে জিঙ্ক অক্সাইড ও টাইটেনিয়াম অক্সাইডসমৃদ্ধ ম্যাট ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায়, যা ত্বককে তেলতেলে করে না।
* যেহেতু প্রকৃতি এখনো শুষ্ক। ধুলোময়লাও অনেক। কাজের চাপ আর দূষণ ত্বকের দারুণ ক্ষতি করতে পারে। নিয়মিত স্যালোন কিংবা পারলারে ঢু মারা সম্ভব না-ও হতে পারে সব সময়। তাই বাড়িতে মজুত রাখুন- মধু, কমলালেবু, শসা, গোলাপজলের মতো প্রাকৃতিক উপাদান। এর প্রতিটিই ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। চটজলদি ঘরোয়া ফেস মাস্ক বানিয়ে নিতে পারেন রূপচর্চায়।
এদিকে যাঁদের প্রতিদিনই বাইরে যেতে হয়, তাঁদের তো নিয়ম মেনে রূপচর্চা করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। শোভন সাহা জানালেন ঘরে বসেই কীভাবে এই বসন্তে ত্বককে সুস্থ ও সতেজ রাখবেন তার কিছু উপায়।
* মুগডালের বেসন ত্বক পরিষ্কার করতে বেশ কাজে দেয়। যাঁদের শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বক, তাঁরা এর সঙ্গে কাঁচা দুধ মিশিয়ে পুরো মুখটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। ত্বক তৈলাক্ত হলে কাঁচা দুধের পরিবর্তে জ্বাল দেওয়া দুধ মেশাতে হবে। শসার রসের সঙ্গে ময়দা বা চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিতে পারেন।
* টোনিংয়ের জন্য একগুচ্ছ পুদিনা পাতা ফুটিয়ে নিন। এরপরে পরিষ্কার তরল পেতে পাতাগুলো ছেঁকে নিন। এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন এবং মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন। আপনার ত্বকে তুলার বল দিয়ে মুখ-ত্বকে প্রয়োগ করুন। তাছাড়া পানি গরম হওয়ার পর তাতে অ্যালোভেরা আধঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পানিটুকু ছেঁকে নিন। এর সঙ্গে আধা কাপ গোলাপ জল, দুই টেবিল চামচ গ্লিসারিন ও এক চা-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন।
* এই সময়টায় খুশকির সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। আবহাওয়ার কারণে চুল ড্যামেজ হয়। প্রতিদিন শ্যাম্পু দিলে ড্যামেজ কম হবে, তবে চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ ও শুষ্ক।
* সব ধরনের চুলের উপযোগী এক প্যাক : একটি কলা ও পিঁয়াজ, এক টেবিল চামচ মধু, এক টেবিল চামচ মসুর ডালের বেসন ভালো করে মিশিয়ে চুলে মেখে নিন। এই মিশ্রণ চুলে রেখে এক ঘণ্টা পর ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
এখনো আবহাওয়ায় যেহেতু শীতল আমেজটা যায়নি, তাই গোসলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। সঙ্গে কিছু নিমপাতা মিশিয়ে নিতে পারেন।