রাজশাহী নগরী ক্লিন ও গ্রিন সিটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এখানেও আছে উন্নয়ন বৈষম্য। মধ্য নগরীতে যেমন উন্নয়ন হয়েছে, তেমনি সিটি করপোরেশন এলাকার বহু ওয়ার্ড উন্নয়ন বঞ্চিত রয়ে গেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিষ্প্রভ হচ্ছে নাগরিক সেবার ঘাটতির কারণে। স্বচ্ছ ও সুপেয় পানির বড় সংকট। রাস্তা ও ফুটপাতে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি, মাদকের ছড়াছড়ি, কিশোর গ্যাংয়ের দাপটসহ নানা নাগরিক সংকটের অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহীর সভাপতি আহমদ সফিউদ্দিন বলেন, রাজশাহীর বাহ্যিক উন্নয়ন দৃশ্যমান। চলমান উন্নয়নকাজগুলো বাস্তবায়ন হলে রাজশাহীর গুরুত্ব আরও বাড়বে। তিনি বলেন, নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার অপরিকল্পিত, নোংরা। একটু বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে। জিরো পয়েন্ট থেকে মনি চত্বর পর্যন্ত যানবাহন তো দূরের কথা, হাঁটতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। যেখানে মাংস বেচার কথা না, সেখানে বেচা হচ্ছে। আরডিএ মার্কেটের সামনে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। সুবিধা হয়েছে দখলদারদের। যানজট কমেনি, বরং বেড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, চিড়িয়াখানা বা কেন্দ্রীয় পার্কটি সংস্কারের নামে কংক্রিট দিয়ে পূর্ণ করা হচ্ছে। নভোথিয়েটার ও রেস্টহাউস করা হয়েছে এই উদ্যান ঘিরে। এগুলো অন্য কোথাও করা যেত। এটা এখন আর উদ্যান নেই। লাখ লাখ শিশুকে বিনোদনবঞ্চিত করা হচ্ছে।
নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মোল্লাপাড়ার কলেজ শিক্ষক, মহল্লার একটি দোতলা বাড়ির মালিক মো. আব্দুল্লাহ। বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা গেছে, পোলের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে বিদ্যুতের তার বাড়ি পর্যন্ত নিতে হয়েছে। যে রাস্তা ধরে তিনি বিদ্যুতের তার এনেছেন সেই রাস্তাটি কাঁচা, নেই সড়কবাতি। এমনকি পয়োনিষ্কাশনের জন্য নেই নালার ব্যবস্থা। এই পরিস্থিতির জন্য এলাকাবাসী স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দায়ী করেন।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে মধ্যশহর এলাকার প্রশস্ত সড়ক ও নান্দনিক ফুটপাত নগরবাসীর কাজে আসছে না। নগরীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট, লক্ষ্মীপুর, কোর্ট এলাকা, তালাইমারী, ভদ্রা ও বিনোদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এলাকাগুলোর নবনির্মিত ফুটপাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সড়কগুলোও দখল হয়ে গেছে। ফুটপাত বা সড়কে হাঁটার উপায় নেই। সড়কেরও অর্ধেকটা দখল হয়ে গেছে। ফলে যান চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নগরীর অন্যতম বিনোদন এলাকা পদ্মার পাড়, যা সিটি করপোরেশনের আওতায়। তবে সে জায়গাও দখলদারদের হাতে চলে গেছে। সীমান্তবর্তী এই শহরে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক।