২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলার কোনো সুযোগ পাননি রায়ান রিকেলটন। এবার আইসিসি টুর্নামেন্টে প্রথম খেলতে নামার উপলক্ষ তিনি রাঙিয়েছেন দারুণভাবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেঞ্চুরি করে নিজ দেশের গ্রেটদের কাতারে নাম লেখালেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার।
করাচিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১০৬ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন রিকেলটন। ইনিংসটি গড়া ৭ চার ও এক ছক্কায়। ক্যারিয়ারের সপ্তম ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন ২৮ বছর বয়সী এই কিপার-ব্যাটসম্যান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শতক করা দক্ষিণ আফ্রিকার পঞ্চম ক্রিকেটার তিনি। আগের চার জন হলেন হার্শেল গিবস, গ্রায়েম স্মিথ, জ্যাক ক্যালিস ও হাশিম আমলা।
রিকেলটনের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আইসিসি টুর্নামেন্টে অভিষেকে সেঞ্চুরি করতে পারেন আর কেবল একজন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে রাওয়ালপিন্ডিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে অপরাজিত ১৮৮ রানের ইনিংস খেলেন গ্যারি কার্স্টেন। ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড এটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা দুই ম্যাচে শতকের দেখা পেলেন রিকেলটন। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরিয়নে ২৫৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে রিকেলটনের ব্যাটিং দেখে অবশ্য বোঝা যায়নি তার ভেতরে অবস্থা। বরং ২২ গজে ছুটেছেন তিনি সাবলিল ছন্দে। আফগানদের বৈচিত্রময় বোলিং আক্রমণের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে ম্যাচের আগে আলোচনা ছিল অনেক। সেই চ্যালেঞ্জের জবাব দারুণভাবে দেওয়ায় বড় ভূমিকা রিকেলটনের।
ম্যাচের পর তিনি জানান, ম্যাচের আগে স্নায়ুর চাপ অনুভব করছিলেন ভালোভাবেই। তিনি বলেন, এই অনুভূতি একটু ভিন্ন। এই ম্যাচে নামার আগে বেশ নার্ভাস ছিলাম। আমার প্রথম যথাযথ আইসিসি ইভেন্ট এটি! প্রথম ম্যাচেই দলে অবদান রাখতে পেরে এবং দলে জয়ের ভিত গড়ে দিতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত।
রিকেলটন বলেন, আমাদের মনে হয়েছিল, উইকেট একটু চিটচিটে হতে পারে। তবে ক্রিজে নেমে দেখলাম, খুব একটা খারাপ নয় আচরণ। বাউন্স কিছুটা অসমান ছিল বটে, তবে এটুকু মানিয়ে তো নিতেই হয়। আমার মনে হয়, আমাদের যা ছিল, সবকিছু নিয়েই দারুণ খেলে লড়িয়ে একটা স্কোর গড়তে পেরেছি আমরা।
উল্লেখ্য, প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে আসা আফগানিস্তানকে উড়িয়ে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। করাচি স্টেডিয়ামে ১০৭ রানে জিতেছে প্রোটিয়ারা। আগে ব্যাট করে ৩১৬ রান করে তারা। জিততে হলে রেকর্ড রান করতে হতো আফগানিস্তানকে। তবে আফগানরা থেমেছেন ২০৮ রানে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ