মুলতানের প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টও শেষ হলো তৃতীয় দিনে। তবে এবার জিতেছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ১২০ রানের ব্যবধানে হারিয়ে ১-১ সমতায় শেষ করল তারা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেল ক্যারিবীয়রা। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯০ সালের নভেম্বরে ফায়সালাবাদে ডেসমন্ড হেইন্সের নেতৃত্বে ৭ উইকেটে টেস্ট জিতেছিল ক্যারিবীয়দের পেস ব্যাটারি- ম্যালকম মার্শাল, কোর্টনি ওয়ালশ, কার্টলি অ্যামব্রোস ও ইয়ান বিশপ। এবার মুলতানের স্পিন স্বর্গে দলকে জেতাল ক্যারিবিয়ান স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান, কেভিন সিনক্লেয়ার ও গুড়াকেশ মোটি। সিরিজসেরা ও ম্যাচ জয়ের নায়ক ওয়ারিক্যান এই সিরিজে ৮৫ রানে নেন ১৯টি উইকেট। প্রথম টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৩২ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। আগের ম্যাচে প্রথমবার ১০ উইকেটের স্বাদ পেলেও হারতে হয় দলকে। তবে ৫ উইকেট নিয়ে এবার জেতালেন দলকে। দ্বিতীয় টেস্টেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫টি ও ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে এই বাঁহাতি স্পিনারই জয়ের নায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুলতান ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পাকিস্তানকে ২৫৪ রানের লক্ষ্য দেয়। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ৭৬ রান করেন বাবররা। জয়ের জন্য তাদের দরকার ছিল আরও ১৭৮ রান। মুলতানে পাকিস্তানের পাতা ফাঁদে স্পিন ঘূর্ণিতে তাদেরই নাস্তানাবুদ করল ক্যারিবীয়রা। জিততে পারেনি পাকিস্তান। তৃতীয় দিনের শুরুতে ৫৭ রান করতেই বাকি ৬ উইকেট হারায় শান মাসুদের দল। ১৩৩ রানে অলআউট হয় তারা। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন বাবর আজম। ২৭ রানে ৫ উইকেট নেন জোমেল ওয়ারিক্যান। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে তার শিকার ৯ উইকেট। এ ছাড়া দুই ইনিংস মিলিয়ে ব্যাট হাতে করেন ৫৪ রান। ম্যাচ ও সিরিজসেরা পুরস্কারও জিতেন এই স্পিনার। এর আগে প্রথম টেস্টে ১২৭ রানের জয় পায় পাকিস্তান। শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘুরে দাঁড়ানোয় ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করল দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস : ১৬৩, ২য় ইনিংস : ২৪৪
পাকিস্তান ১ম ইনিংস : ১৫৪, ২য় ইনিংস : ১৩৩
ফলাফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২০ রানে জয়ী।
সিরিজ : দুই ম্যাচ সিরিজ ১-১ ড্র।
ম্যাচ ও সিরিজ সেরা : জোমেল ওয়ারিক্যান।