নাটোরের ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গাঁওয়ালি শিরনি উৎসব। চাল, ডাল দিয়ে রান্না করা এ শিরনি খেতে হাজারও মানুষের সমাগম ঘটে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ উৎসবে অংশ নেন ২৬ সমাজের ৪৬০টি পরিবার। অনুষ্ঠান ঘিরে দূরদূরান্ত থেকে গ্রামে গিয়েছেন জামাই-মেয়ে-নাতি-নাতনিসহ স্বজনরা। গাঁওয়ালি শিরনিকে কেন্দ্র করে ভাতুরিয়া গ্রামে করা হয়েছে ভোজের আয়োজন। সেই ২০০ বছর আগ থেকে এখন পর্যন্ত গ্রামবাসী প্রতি বছর দুবার এ উৎসব পালন করে। প্রতি শীতকালে ঝাল এবং আষাঢ় মাসে মিষ্টি শিরনি করা হয়। উৎসব উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
স্থানীয়রা জানান, গাওয়ালি শিরনি অনুষ্ঠানে দূরদূরান্ত থেকে জামাই-মেয়ে-নাতি-নাতনিসহ স্বজনরা গ্রামে আসেন। ভোজনের আয়োজন করা হয়। ফজরের নামাজের পর থেকে দিনভর চলে এ আয়োজন। পরিবারের সদস্য ও আগত অতিথিদের সংখ্যা ভেদে ৮ থেকে ১০টি পর্যন্ত ভোজের ভাগ দেন পরিবারপ্রধান। কেউ চাল কেউবা টাকা দিয়ে অংশ নিয়ে থাকেন। দিঘাপতিয়া পিএন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম আনোয়ার জানান, একসময় বছরে দুবার এ উৎসব পালন করা হতো। উৎসবকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর মধ্যে তৈরি হতো ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। বসত হরেক রকমের খাবার ও পণ্যসামগ্রীর মেলা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাদিম মাহমুদ জানান, ২০০ বছর আগে এ গ্রামে ডায়রিয়া-কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অনেক মানুষ মারা যায়। আতাব্দী ফকির নামে এক আলেমের পরামর্শে শিরনি উৎসব করা হয়। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন আক্রান্তরা। কিছু দিন পর গবাদিপশুও আক্রান্ত হলে একইভাবে ক্ষির শিরনি উৎসব করা হয়।