চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে হলুদ জাতের মাল্টা উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সজল আহমেদ। স্বাদ ও বর্ণে আকর্ষণীয় হওয়ায় সহজেই ভোক্তাদের আকৃষ্ট করছে এ মাল্টা। জেলায় সবুজ মাল্টার ব্যাপক উৎপাদন হলেও কৃষক সজলের হাত ধরে হলুদ মাল্টায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামে দেখা যায়, গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ রঙের মাল্টা। দেখে মনে হবে ভিনদেশি কোনো মাল্টার বাগান এটি। এ রকম দৃশ্য প্রথম দেখাতেই আশান্বিত হচ্ছেন দর্শনার্থীরাও। আর অসাধ্য এ কাজটি সাধন করেছেন জীবননগরের ফল চাষি সজল আহমেদ। সজল জানান, সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে দেশের মাটিতে সহজেই হলুদ জাতের মাল্টায় সফলতা পাওয়া সম্ভব। এ জন্য সঠিক জাত নির্বাচন এবং যথাযথ সার ও পানি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। এ জাতের মাল্টা চাষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন। তিনি বলেন, যারা বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন তারাও দেশের মাটিতেই এ মাল্টা চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে পারেন। সজলের মাল্টা বাগানে কর্মরতরা জানান, এক বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টার চারা রোপণ করা যায়। পরিচর্যাসহ ফল আসা পর্যন্ত খরচ হয় প্রায় ১ লাখ টাকা। আড়াই বছর বয়সে গাছে ফল আসা শুরু হয়। তিন থেকে চার বছর বয়সে পরিপূর্ণ ফল আসে। এক বিঘা জমির পূর্ণ বয়স্ক গাছে বছরে তিন-চার লাখ টাকার মাল্টা পাওয়া সম্ভব। মানিকপুরের হলুদ মাল্টার বাগানে আসা দর্শনার্থী চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের বাসিন্দা ইসরাইল আলী বলেন, ‘দেশের মাটিতে যে হলুদ মাল্টা উৎপাদন হতে পারে সেটা আমার ধারণাতে ছিল না। আমি এ বাগানে এসে অনেকটা অভিভূত। তা ছাড়া বাগান মালিকের দেওয়া মাল্টা খেয়েও দেখেছি। খুবই সুস্বাদু। এগুলো দেশের বাজারে পাওয়া বিদেশি মাল্টার চেয়ে কোনো অংশে কম না।’
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘কৃষি উদ্যোক্তা সজল কৃষি বিভাগের পরামর্শে সঠিক সেচ ও অনুখাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হলুদ জাতের মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তার ফলন ভালো হচ্ছে। আগ্রহী উদ্যোক্তা যদি কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে সজলের মতো ভালো জাতের মাল্টার চাষ করে তাহলে আমাদের দেশে মাল্টার আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে।’ এ মাল্টা চাষে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা স্বাবলম্বী হয়ে নতুন পথের সন্ধান পাবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।