অপচয়, জালিয়াতি এবং দুর্নীতির চিহ্ন খুঁজে বের করে ফেডারেল সরকারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার সংকল্পে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া দফতরের প্রধান হিসেবে ইলন মাস্ক ‘সোস্যাল সিকিউরিটি’ ডিপার্টমেন্টে ভয়ংকর দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছেন।
রবিবার মাস্ক নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে শতাধিক বছরের মানুষ রয়েছেন ২০ মিলিয়নেরও অধিক। বেশ কিছু আছেন যাদের বয়স ৩৬৯ বছরের বেশি। অর্থাৎ এসব মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে বছরের পর বছর যাবত ‘সোস্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট’ দেয়া হচ্ছে। ইলন মাস্কের মতে, ‘সম্ভবত টোয়াইলাইট (ভ্যাম্পায়ারদের নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র) বাস্তব, আর অনেক ভ্যাম্পায়ার সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাচ্ছে। তবে তিনি হয়তো একেবারে ভুল বলছেন না। কারণ সোশ্যাল সিকিউরিটি রেকর্ডে এমন একজন ব্যক্তির নাম রয়েছে, যার বয়স ২৪০ থেকে ২৪৯ বছরের মধ্যে, এবং আরেকজনের বয়স ৩৬০ থেকে ৩৬৯ বছরের মধ্যে।
অবশ্য ২০২৩ সালের জুলাই মাসের অডিট রিপোর্টেও এমন জালিয়াতি-প্রতারণার তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। সেখানে বলা হয় ১৮.৯ মিলিয়ন (এক কোটি ৮৯ লাখ) আমেরিকানের বয়স ১০০ বছরের বেশি এবং তারা সকলেই জীবিত। যদিও ঐ সময়ে সেনসাস রিপোর্ট অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে একশত বছরের অধিক মানুষের সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজারের মত। এরও আগে অর্থাৎ ২০১৫ সালে অডিট দফতরের মহা-পরিদর্শকের অডিটে ১১২ বছরের অধিক মানুষের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিলেন ৬৫ লাখ। বাস্তবে যা ছিল ৩৫। আরো জানা যায়, সে সময়ের (২০২৩) জীবিত (?) এসব ব্যক্তির মধ্যে এক কোটি ৮৪ লাখ অবশ্যই বেনিফিটের মাসিক অর্থ ড্র করেননি অর্থাৎ তারা মারা গেছেন। ডিজিটাল সিস্টেমে জন্ম-মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষিত করার আগে অনেক কিছু গড়মিল ছিল। এই সিস্টেম চালুর পর সে সব আপডেট না করায় এমন ভ্রান্তি থাকাটা স্বাভাবিক বলে সোস্যাল সিকিউরিটি এডমিনিস্ট্রেশন দাবি করলেও কতিপয় অসাধু কর্মচারি সুযোগটি নিচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে-এমন মন্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের। কারণ, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৪৪ হাজার মানুষ বেনিফিট নিচ্ছেন-যার মধ্যে জীবিত আছেন মাত্র ১৩ জন, যাদের বয়স ১১২ বছরের অধিক।
এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটনের পর সুধীজনে ট্রাম্পের প্রশংসা উচ্চারিত হচ্ছে। ইলন মাস্ক সঠিক কাজটিই শুরু করেছেন বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল