নতুন করে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের জন্য কোনো আবেদন গ্রহণ করবে না মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। তবে ইতোমধ্যে জমা নেওয়া আবেদনগুলো যাচাই করবে বলে জানা গেছে। এমআরএ সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ১০০ প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে স্থায়ী লাইসেন্সেপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭১৯টি এবং ৩৭১টি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছে। সরকার গত তিন বছরে দেশব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩৭১টি বেসরকারি সংস্থাকে (এনজিও) শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স দিয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর প্রশ্ন তুলে বলেছেন এমআরএ আসলে এত বড় সংখ্যক ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম কি না। চূড়ান্ত লাইসেন্স পেতে তাদের অবশ্যই নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শর্তসাপেক্ষে তিন বছর মেয়াদে কাজ করছে। যার মধ্যে প্রথম বছরে কমপক্ষে ৩০০ জন ক্ষুদ্র গ্রাহকের মাঝে ৪০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করতে হবে। দ্বিতীয় বছরে ৭০ লাখ টাকা ঋণসহ ৬০০ জন গ্রাহক থাকতে হবে এবং তৃতীয় বছরের মধ্যে কমপক্ষে ১ হাজার গ্রাহককে ১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করতে হবে। শর্তসাপেক্ষ লাইসেন্স পাওয়া এনজিওগুলোর প্রত্যেকটিকে কার্যক্রম শুরু করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। এমআরএ অনুমোদনসাপেক্ষে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের জন্য এই তহবিল ব্যবহার করছে।
ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী এনজিওগুলোর আগ্রহের কারণে ২০২১ সালে লাইসেন্স প্রদানের জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল। জানা গেছে, সারা দেশের ১ হাজার ১৩০টির বেশি এনজিও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালানার জন্য লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে এবং তাদের সবাইকে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। সরকার সব নতুন আবেদনকারীর আবেদনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তিন বছরের জন্য প্রাথমিক লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমআরএর একজন পরিচালক বলেন, সব আবেদন মূল্যায়ন করতে প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে। আমাদের লোকবলের অভাব। তাই সব আবেদনের পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন সময়সাপেক্ষ। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে পরিচালনার জন্য ২০০৬ সালে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি আইন-২০০৬ প্রণয়ন করা হয় এবং ওই বছরের ২৭ আগস্ট কার্যকর করা হয়।
এমআরএ কর্মকর্তারা বলেন, ২০০৬-০৭ সালে আমরা ৪ হাজার ৩০০টি আবেদন পেয়েছি কিন্তু ৭৫৮টি এনজিওকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের জন্য সক্ষম বলে মনে হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৭টি দারিদ্র্যপীড়িত জেলা থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করে এমআরএ এবং ১ হাজার ২১২টি আবেদন জমা পড়ে। তিন বছর পর্যবেক্ষণের পর ২০১৪ সালে এমআরএ ১২২টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করে। তবে বিভিন্ন সময়ে ১৫১টি এনজিওর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫০ এনজিও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রকের অধীনে কাজ করছে। এসব ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ৪ কোটিরও বেশি মানুষকে সেবা দেয়।