ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশটি ডাকাতির হটস্পট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা।
রাত হলেই এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের কবলে পড়তে হচ্ছে। ফলে এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত সাত মাসে এ এলাকায় একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ততম এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। তবে বছরের দুই ঈদে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। আর এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়।
সম্প্রতি আলোচিত কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা
- ৮ ডিসেম্বর ২০২৪: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া অংশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মাইক্রোবাস আটক করে একদল ডাকাত। তারা সমন্বয়কদের ওপর হামলা চালিয়ে মোবাইল, মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।
- ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: দুই প্রবাসী আবু হানিফ ও রাজিব ভূঁইয়া ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার পথে বন্দর এলাকার কেওঢালা অংশে ডাকাতদের কবলে পড়েন। ডাকাতরা তাদের অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ভোরে সোনারগাঁ পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাড়িয়ারচর এলাকার সাধু পেপার মিলের সামনে সিরাজুল ইসলাম নামে এক কুয়েত ফেরত প্রবাসী ডাকাতির শিকার হন। ডাকাতরা তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে পাসপোর্টসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়।
- ১৫ মার্চ ২০২৫: দুপুরে মহাসড়কের সোনারগাঁ দড়িকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল ডাকাত দিনে-দুপুরে "দিবা এন্টারপ্রাইজ" নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাইক্রোবাস আটক করে। ফিল্মি স্টাইলে তারা ১ কোটি ১০ লাখ টাকা লুট করে নেয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় ৬টি মামলা দায়ের হয়েছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মোরশেদ জানান, "ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তায় টহল টিম বাড়ানো হয়েছে। মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সর্বদা সতর্ক আছি। ঈদের দুদিন আগে থেকে টহল আরও বাড়ানো হবে।"
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) আসিফ ইমাম বলেন, "ঘরমুখো সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ৫টি টহল টিম কাজ করছে। ২৬ মার্চের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর টহল আরও বাড়ানো হবে। মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।"
উপজেলার কাঁচপুর, মদনপুর ও মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ডের টিকিট কাউন্টার কর্মকর্তারা জানান, "২৫ রমজানের পর থেকে যাত্রীদের চাপ অনেক বেড়ে যাবে। প্রশাসন যদি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়, তবে ঈদযাত্রা স্বস্তির হতে পারে।"
বিডি প্রতিদিন/আশিক