চলতি পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে প্রায়ই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মিলছে।
আজ বুধবার দুপুরে একদল পর্যটক একটি বাঘকে ভোলা নদী সাঁতরে পার হতে দেখেন। তারা বাগেরহাটের পূর্ব-সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের নির্মাণাধীন আলীবান্দা ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঘুরতে এসেছেন।
এর একদিন আগে মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে আরেক দল পর্যটক একই রেঞ্জের বড় কটকা খাল সাঁতরে পার হতে দেখেন একটি বাঘকে। সুন্দরবনে এখন প্রায়ই বাঘ দেখার বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছেন পর্যটকরা।
সুন্দরবনে শিকারিদের দমন ও দস্যুমুক্ত হবার পর বাঘের বসবাসের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে। তাই ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড এই বনে বাঘ বেড়েছে। এ জন্য প্রায় প্রতিদিনই বাঘের দেখা মিলছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
বাগেরহাট থেকে শরণখোলা রেঞ্জের নির্মাণাধীন আলীবান্দা ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়া পর্যটক আবুল হোসেন খান জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তারা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ভোলা নদী দিয়ে যাবার সময় একটি বাঘকে সাঁতরে নদী পার হতে দেখেন। এরপর বাঘটি বনের গহীনে চলে যায়। এ সময় মোবাইলে বাঘটির ছবিও তোলেন তারা।
এর আগের দিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জলযান ‘দি সেইল’ বঙ্গোপসাগর হয়ে সুন্দরবনের বড় কটকা খাল দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাঘকে সাঁতরে নদী পার হতে দেখেন পর্যটকরা।
ওই পর্যটকবাহী লঞ্চটির যাত্রী পরিবেশবিদ মো. নূর আলম শেখ জানান, গত ২৫ বছর ধরে আমি সুন্দরবনে আসা-যাওয়া করি। প্রতিবছরই একাধিকবার গেলেও এবারই প্রথম বনের মাঝে সামনা-সামনি বাঘ দেখার সৌভাগ্য হলো। এই মুহূর্তের অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না।
বাগেরহাটের পূর্ব-সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মো. নূরুল করিম জানান, এক মাস আগে গত ১৯ জানুয়ারি সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্যের বেতমোড় এলাকার নদীর পাশে একই জায়গায় তিনটি বাঘের দেখা পান পর্যটকবাহী জলযান এমভি আলাস্কার একদল পর্যটক। সে সময় দুটি বাঘ আক্রমণ করে একটি বাঘকে নদীতে ফেলে দেয়। সুন্দবনে শিকারিদের দমন ও দস্যুমুক্ত হবার পর বাঘের বসবাসের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে। তাই চলতি পর্যটন মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই বাঘের চলাচল বেশ চোখে পড়ছে।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। এখন সুন্দরবনে বাংলাদেশ অংশে বাঘ রয়েছে ১২৫টি।
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ